
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর অপহরণ, নির্যাতন ও ডাকাতির মামলায় ২ নম্বর আসামী ফয়জুল ইসলাম পীর (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট ২০১৮) তাকে গ্রেপ্তারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামী ফয়জুল ইসলাম পীর মৃত জহির আলীর পুত্র। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমা থানাধীন পুরান তেতলী এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-১৪, তারিখ ২১ জুলাই ২০১৮, জিআর নং-১৩০/২০১৮ এর এজাহারভুক্ত এই আসামী দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। অবশেষে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
মামলা সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলার বাদী এলডিপি নেতা সাইফুল আলমকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি, শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমান করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বাক্ষরকৃত চেক জোরপূর্বক আদায় করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলার বাদী সাইফুল আলম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তিনি গোপলাপগঞ্জ থানার দত্তরাইল গ্রামের মৃত আপ্তাব আলীর পুত্র। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানার আম্বরখানা এলাকার ইষ্টার্ণ প্লাজার ৩০১নং ফ্লাটে বসবাস করে আসছেন। তিনি সিলেট জেলা এলডিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর প্রায ৪ বছর যাবত দেশে ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৬ জুলাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শাহজালাল নতুন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে রাস্তায় আসামাত্র আসামীগণ পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তাকে অস্ত্রের মুখে চোখ বেঁধে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি ও অশ্লীল কর্মকা-ের মাধ্যমে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৩৬ হাজার ৭৫৬ টাকা, ১৫০ মার্কিন ডলার, অন্যান্য টাকা এবং একটি ব্যাংকের স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সাদা কাগজ ও চেকে একাধিক স্বাক্ষর আদায় করা হয় এবং অস্ত্রসহ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়।
ভোররাতে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি দায়িত্বরত পুলিশের সহায়তা নেন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ নং আসামী ইকবাল আদালতে আত্মসর্ম্পন করে জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং ৩ নং আসামী রাসেল আহমদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।