
কানাইঘাট প্রতিনিধি:
কানাইঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও জোর করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে কানাইঘাট মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঐ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এনামুল হক।ভোটগ্রহণ চলাকালে আসামিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন তিনি। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও টহলরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খবর পেয়ে ওই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেন। তারা হলেন জামায়াত ইসলামীর কানাইঘাট থানা আমীর কামাল উদ্দিন ও ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের শিবিরের সভাপতি আহমেদ সালেহ বিন মালেক। এ মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ খ্রি: উপলক্ষে নির্বাচনী কেন্দ্র কানাইঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৩০/১২/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ সকাল ৮.০০ ঘটিকা হইতে অত্যন্ত শান্তি পূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময় অনুমান ১৪টা ২৫ ঘটিকার দিকে এজাহারে বর্ণিত অপরাপর আসামী সহ অজ্ঞাতনামা জামাত-শিবির ও বিএনপি এর অনুমান ৫০/৬০ জন লোক নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার ও ধানের শীষ ধানের শীষ শ্লোগান দেয়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গার রূপ ধারন করিয়া কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করিলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যগণ বাধা প্রদান করেন এবং তাদেরকে এরকম কার্যক্রম থেকে নিবৃত্ত করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু আসামীগণ ভোট কেন্দ্রের মাঠে বেআইনীভাবে জোরপূর্বক প্রবেশ করিয়া ব্যালট বাক্স সহ নির্বাচনী অন্যান্য মালামাল ও উপকরণ ছিনাইয়া নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ আইনানুগ ভাবে বাঁধা প্রদান করিলে আসামীগণ বেশ কয়েকটি ককটেল বোমার বিস্ফোরন ঘটায় এবং উপর্যুপুরি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করিয়া শান্তিপ্রিয় ভোটারদের মনে আতংক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
এজহারে উল্লেখিত আসামীরা হলেন ১। কামাল উদ্দিন (৫০), উপজেলা জামায়াতের আমীর, পিতা-মৃত সরাফত আলী, ২। ফরহাদ আহমদ (৩৮), বিএনপি কর্মী, পিতা-আলকাছ মিয়া, উভয় সাং- সীমাবাজার, ৩। কাওছার মাহমুদ (২৪), (ছাত্র শিবির নেতা) পিতা-হায়াত উল্লাহ, সাং-আগফৌদ নারাইনপুর, ৪। মতি মির্জা (৩৫), পিতা-সোয়াব আলী, সাং- গুচ্ছগ্রাম, ৫। হৃদয় আহমদ (২০), পিতা- গলাকটা রফিক, সাং- রায়পুর ৬। মনির আহমদ (৩২), শিবির নেতা, পিতা- রহমত, সাং- ঠাকুরের মাটি, ৭। আহমেদ সালেহ বিন মালেক (৩০), ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন শিবির সভাপতি, পিতা- মাওলানা আব্দুল মালেক, ৮।রেজওয়ানুল করিম (৩৫) জামায়াত নেতা, পিতা-আব্দুল করিম, ৯। মুহি উদ্দিন মাহি (২৫) শিবির নেতা, পিতা- কামরুল ইসলাম, ১০। আহমেদ হোসেন (৪০) জামায়াত নেতা, পিতা-ফরমান আলী
সর্ব সাং-আগফৌদ নারাইনপুর, ১১। নাদির আহমদ (৪০), জামায়াত নেতা, পিতা- আনা মিয়া, ১২। আব্দুল রাজ্জাক (৪০), পিতা-আব্দুল মতিন, উভয় সাং- দুর্লভপুর, ১৩। আব্দুল মালিক (৪৫), বিএনপিকর্মী, পিতা- মৃত ছত্তার মিয়া, ১৪। শওকত আমীন (৪৫), ছাত্রদলকর্মী, পিতা-এরশাদ মিয়া, উভয় সাং-২নং ওয়ার্ড, কানাইঘাট পৌরসভা, ১৫। তানজিম আহমদ (২০), শিবিরকর্মী, পিতা-মেহরাব হুসেন, ১৬। মোহনলাল (২৫), ছাত্রদল নেতা, পিতা-মৃত রফিক মিয়া, ১৭। পাপলু মিয়া (২০), পিতা-কবির আহমদ, ১৮। আক্তার রশিদ চৌধুরী (৪০), পিতা-মৃত এনাম চৌধুরী, সর্ব সাং- দলকিরাই, ১৯। বদরুল হক (৩০), ছাত্রদল কর্মী, পিতা-মানিক মিয়া, সাং-২০। রিপন আহমদ (২৪), পিতা-মিজান মিয়া, ২১। আমজাদ পারভেজ (৩৮), জামায়াত নেতা, পিতা- কনাই মিয়া, সর্ব সাং-দুর্লভপুর, ২২। আবু আহমদ (২০), পিতা- তেরা মিয়া, ২৩। নজরুল ইসলাম ফাহিম (২৪), পিতা- নিজাম মিয়া, ২৪। সাদ্দাম আহমদ (২৭), পিতা-রফিক মিয়া ড্রাইভার, ২৫। তানজিন আহমদ (১৯), পিতা-রুহেল আহমদ, ২৬। মান্না আহমদ, পিতা-বাবুল মিয়া, ২৬। ফয়সল আহমদ (২৮), শিবির কর্মী, পিতা-আলী আহমদ, সর্ব সাং-বড়বন্দ (মাঝরফৌদ), সর্ব থানা-কানাইঘাট, জেলা-সিলেট গং অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জন।