বড়লেখায় মৎস্য খামার ব্যবসায়ী হত্যা : ৭ জনের নামে হত্যা মামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত April 23, 2020
বড়লেখায় মৎস্য খামার ব্যবসায়ী হত্যা : ৭ জনের নামে হত্যা মামলা

বড়লেখা প্রতিনিধি :  মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মৎস্য খামার ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিন (৩৪) হত্যার ঘটনায় ৭ জনের নামে বড়লেখা থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সমছ উদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে। গত ২০ এপ্রিল তার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাসুম রহমান (২২) ও কুটি মিয়া (২৫)।

মামলার আসামিরা হলেন- বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গ্রামতলা গ্রামের তজমুল আলীর ছেলে আব্দুস শুক্কুর (৫৮), মোহাম্মদনগর গ্রামের মৃত আব্দুল বশির খানের ছেলে নুরুল ইসলাম খান (৬০), বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গ্রামতলা গ্রামের আব্দুস শুক্কুরের ছেলে মামুনুর রশীদ (২৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে সাব্বির আহমদ খান (২৫), একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন (২৫), আফজালুর রহমানের ছেলে মাসুম রহমান (২২) ও আলী মিয়ার ছেলে কুটি মিয়া (২৫)।

গত ২০ এপ্রিল সকালে বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকার মৎস্য খামারের পুকুর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত সমছ উদ্দিনের বাবা আমির উদ্দিন বাদী হয়ে ২১ এপ্রিল থানায় হত্যা মামলা (নং-১৯) করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মৎস্য খামারি সমছ উদ্দিনের সাথে তার পার্টনার আব্দুস শুক্কুরের দ্বন্দ্ব চলছিল। গত ১৯ এপ্রিল সমছ উদ্দিন নিখোঁজের আগে আব্দুস শুক্কুরের সাথে তার ঝগড়া হয়। ওইদিন রাত থেকে সমছ হঠাৎ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার বাবা আমির উদ্দিন থানায় জিডি করেন। জিডির প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীরে নির্দেশে থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ সমছের খোঁজে নামে। এরমধ্যে স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে ২০ এপ্রিল সকালে খামারের পুকুর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মাসুম রহমান (২২) ও কুটি মিয়া (২৫) -কে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ অন্য আসামিদের নাম জানতে পারে। হত্যাকা-ের ব্যাপারে তার কাছ থেকে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সমছ উদ্দিন উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদনগর এলাকার রহমানীয়া চা বাগান-সংলগ্ন স্থানে কিছু জায়গা কেনেন। কেনা জায়গার কিছু অংশে সমছ উদ্দিন দুটি মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। তার খামারের সাথে শেয়ার ছিলেন পাশের জমির মালিক ও সিপিবি নেতা আব্দুস শুক্কুর। প্রায়ই রাতের বেলা সমছ উদ্দিন খামারে যাওয়া-আসা করতেন। ঘটনার একদিন আগে আব্দুস শুক্কুরের সাথে সমছ উদ্দিনের ঝগড়া হয়। ওইদিন রাতে তিনি বাড়ি থেকে খামারের উদ্দেশে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাঁকে খুঁজতে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখতে পান। কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। এদিন সন্ধ্যায় সমছের বাবা বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২০ এপ্রিল সকালের দিকে খামারের পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক। তিনি বলেন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান আছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন