
প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য- তাঁর কবিতার লিখে ছিলেন, এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। আমি তাঁর মতো করে বলতে চাই এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশকে বড় অসহায় মনে হয়। মনে হয় বাংলাশে কে শিকল েিয় বেঁধে ফেলা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। সাংবিধানিক অধিকার শুধু সংবিধানে লিখা আছে, বাস্তবে নাই। মানবাধিকার স্বপ্নের মতো মনে হয়। বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, বলাৎকারের শিকার হচ্ছে। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, প্রতিরোধের শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আমরা কি এই স্বাধীন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। এই জন্য কি মৌলবাদী পাকিস্তানিদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত করেছিলাম। ৩০ লক্ষ জীবন ও দুই লক্ষ নারী ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশ চলে যাচ্ছে অন্ধকারের যুগে, মৌলবাদীদের হাতে।
আজও বাংলাদেশে আমরা আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলাম না। সবার জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। নারীদের অধিকার আজ প্রতিষ্ঠিত হলো না। নারীরা আজও পিতার সম্পত্তিতে সমান অধিকার পায়না। ধর্ষণের বিচার পায় না। নারীদের ঘরে বন্ধি করে রাখার চিন্তা মানুষের রয়ে গেলো। নারীর স্বাধীনতার কথা, নারীর অধিকারের কথা বলতে গেলে সুশীল বলে আক্রমণ করা হয়, হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ কেমন সংস্কৃতি? এ কেমন সমাজ ব্যবস্থা? বাংলাশে সব মানুষের-সব ধর্মের। বাংলােেশর মানুষ তাঁর নাগরিকত্বের পরিচয়ে রাষ্ট্র থেকে তার প্রাপ্য অধিকার পাবে, ধর্মে, বর্ণ ও লিঙ্গের পরিচয়ে না।
এখন বাংলােেশ কবিতা, গান ও শিল্পের চর্চা হয় না। তরুণ-তরুণীরা একসময় কবিতা চর্চায় ডুবে থাকতো, মুক্ত চিন্তায় মনোনিবেশ থাকতো। এখন মুক্ত চিন্তা করতে ভয় পায়। অজানা এক ভয়। মৃত্যুর ভয়। বাংলােেশ মুক্তচিন্তা মনে তরুণদের হত্যা করা হলো। কেউ এ হত্যার বিচার পেলো না। আমাদের কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই। একে অপরকে কাফির বলে গালি দেয়। এ কেমন সংস্কৃতি। আমরা একে অপরকে ভালোবাসবো। একে ওপরের পাশে দাঁড়াবো। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবো। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। এটাই আমাদের পরিচয়। আমাদের পরিচয় আমার বাঙালি, বাংলাদেশি। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ। সংবিধান আমাদের সর্বোচ্চ আইন। খেলাফত কিংবা শরিয়া আমাদের শাসনতন্ত্রের ভিত্তি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা মা ও মাটিকে ভালোবাসি। দেশকে ভালোবাসি। দেশের জন্য আবার অস্ত্র ধরতে পারবো। মুক্ত কণ্ঠে গাইবো, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি—।
লেখক : মারুফ আলী। সাম্য কর্মী ও মানবতাবাদী।