
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ০৫ এপ্রিল, সোমবার, জগন্নাথপুরে ছাত্রদল নেতা কামরান হোসেনের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলাকালে তার ছোট বোন আহত হয়। হামলাকারীরা নিজেদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী দাবী করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। কামরান হোসেন (২১) ও ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার সায়মা (১৪) উভয়ই সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীর চরের মোঃ এমদাদুর রহমানের পুত্র-কন্যা। সায়মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কামরান হোসেন (২১) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সিলেট মদন মোহন কলেজ শাখার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ইউনিটের সভাপতি। গতকাল মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত কামরান হোসেনের গ্রামের বাড়ির কালনীর চরে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এসময় কামরানের ছোট বোন সায়মা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কামরানকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় যে, তারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কর্মী। তাদের উর্ধতন নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে নির্দেশ আছে কামরানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার। তারা আরো জানায়, কামরান সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাকে এক্ষুনি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।
এ সময় সায়মা তাদেরকে জানায় যে, কামরান বাড়ি নেই। সে কোথায় আছে তাও তার জানা নেই। এ কথা শুনে দুর্বৃত্তরা তার উপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তথ্য না দেয়ায় তারা সায়মাকে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে আতংকে সায়মা সংজ্ঞা হারায়।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উচিয়ে ধমক দিয়ে চলে যায়। যাবার সময় এই বলে শাসিয়ে যায় যে, যদি তারা কামরানকে তাদের হাতে তুলে না দেয় তবে তারা তার পরিবারের সকল সদস্যকে দেখে নেবে। পরে আহত সায়মাকে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত সায়মার পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী। তাদের কু-কর্মের প্রতিবাদ করার সাহস কারও নেই। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ভয় পায়। হামলাকারীরা সরকারী দলের কর্মী হওয়ায় তারা কোন আইনী সহযোগিতাও তারা পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় কামরানে মা রেনু বেগম (৫২) জগন্নাথপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে এবং একটি জিডি এন্ট্রি গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ডিউটি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, ঘটনাটি মামলা করার জন্য “ইনসাফিসিয়েন্ট” তাই তারা এ ঘটনার একটি জিডি গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা