• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর অচেতন অবস্থায় জামায়াত নেতা সাইফুর উদ্ধার : পরিবারের দাবি অপহরণ, মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি দাবি

Daily Jugabheri
প্রকাশিত মে ১৭, ২০২২
নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর অচেতন অবস্থায় জামায়াত নেতা সাইফুর উদ্ধার : পরিবারের দাবি অপহরণ, মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি দাবি

শামসুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত নেতা সাইফুর রহমান খানকে টানা ১৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর গতকাল ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ক্বীনব্রিজ সংলগ্ন দেয়ালের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাইফুর রহমান খান মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আব্দুল গাফফার খানের ছেলে।
চিকিৎসকরা জানান, সাইফুর রহমান খান এর শরীরের পেছনে ও ডান হাতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমান খান প্রতিদিনের মতো ব্যবসার কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার কথা ছিল। রাত ১১টার পরেও না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইলে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পান। পরে আত্মীয়স্বজন ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছেও খোঁজ নিয়েও কোনো তথ্য মেলেনি। নিখোঁজের পর পরিবার ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে এবং স্থানীয় কোতোয়ালি ও এয়ারপোর্টে থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশের কাছ থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সকালে খবর আসে যে সিলেট নগরের ক্বীনব্রিজের পাশে এক ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরিবার সেখানে গিয়ে নিশ্চিত হয় যে তিনিই সাইফুর রহমান খান।
চিকিৎসাধীন সাইফুর জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জল্লারপার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মির্জাজাঙ্গাল স্কুলের সামনে একটি কালো মাইক্রোবাসে থাকা সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তিনি কিছু মনে করতে পারেননি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ জানান, “সাইফুর রহমান খান এর নামে একটি পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক মামলা হয়েছে। আমরা তাকে খুঁজছি।” নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি এড়িয়ে যান।
জামায়াত নেতাদের প্রতিক্রিয়া: সিলেট মহানগর জামায়াতের নেতা শাহাজাহান আহমদ বলেন, “সাইফুরের মতো আমাদের বহু কর্মী গুম ও মামলার শিকার হচ্ছেন। এটি রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ। আমরা আশা করি তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন, এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আহবান : পরিবার ও স্থানীয় অধিকারকর্মীরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তারা বলছেন, “সাইফুর রহমান খানের নিখোঁজ ও আঘাতের ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির সমস্যা নয় – এটি আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন