
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৩ পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ বাজারস্থ অগ্রণী ব্যাংকের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে। পরে রাতে এসআই রাজেন্দ্র প্রসাদ দাশ বাদী হয়ে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীরা সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- গোলাপগঞ্জ থানার পশ্চিম রায়গড় গ্রামের মৃত মাহতাব আহমদের পুত্র ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান উদ্দিন মুরাদ, রায়গড় গ্রামের মৃত মুহিত আলীর পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ঢাকাদক্ষিণ নগর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার পুত্র ইনান আহমদ, কতোয়ালপুর গ্রামের সোলেমান আহমদের পুত্র মিনহাজ আহমদ, দত্তরাইল গ্রামের হাছিব আলীর পুত্র জাবেদ আহমদ, নিশ্চিন্ত পূর্ব খর্দ্দাপাড়া গ্রামের খলকু মিয়ার পুত্র জাকির আহমদ, গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকাদক্ষিণ নগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র সুহেল আহমদ ও রুহেল আহমদ, মৈশাশি গ্রামের লেবু মিয়ার পুত্র ফয়ছল আহমেদ, কায়স্থঘাট গ্রামের আং করিমের পুত্র জাহিদ হাসান, গোলাপগঞ্জ থানার মৈশালী গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র সুমন আহমদ, হাজী সোরফান আলীর পুত্র কনাই মিয়া, গলমু কাপন গ্রামের মৃত আব্দুল কাইয়ুমের পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম, মেশাশি গ্রামের কালাম মিয়ার পুত্র হাসিম আহমেদ, আব্দুল মতিনের পুত্র মোঃ আবুল হোসেন, আব্দুল লতিফের পুত্র নাজমুল ইসলাম, বিশ্বনাথ থানার খাদিমপুর গ্রামের খালেদ মিয়ার পুত্র আহবাবুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের মৃত হাজী কলিম উল্যার পুত্র হারুন মিয়া, মুসলিমাবাদ (ডেকাপুর) গ্রামের শেখ উস্তারের পুত্র শেখ জুনেদ ও বরায়া গ্রামের আখলুছ মিয়ার পুত্র আল মাসুম আবির।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বাজারস্থ অগ্রণী ব্যাংকের সামনে রাস্তায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নেতাকর্মীরা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তখন পুলিশ আক্রমণ জোরদার করলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সংঘর্ষে ৩ পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বিনা কারণে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এখন মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করছে নেতাকর্মীদের। পুলিশ আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মীদের মতো স্বৈরাচারী ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে গাড়ী ভাংচুর করছিল। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৩ পুলিশ আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।