
মাসুদ আলী, বিশেষ প্রতিনিধি :
আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের যোগ-সাজসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষত: পুলিশ ও র্যাবের নানান অরাজকতা এবং বেআইনি কার্যকলাপের এক ভয়াবহ তথ্য বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি ২০২৩) তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, গত ৩০ আগস্ট ২০২২ ইং তারিখে আওয়ামী লীগের ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কর্মীবাহিনী বিএনপি'র সভায় হামলা চালায় এবং ১৫ জন নেতা-কর্মীকে আহত করে ও সভা পন্ড করে দেয়। বিএনপি সভাপতি এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট হাসান মাহমুদ উক্ত মামলার আইনজীবী নিয়োজিত হন। সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট হাসান মাহমুদের সহকারী হিসেবে তিনি ঐ মামলার ভিকটিমদের সাক্ষ্য প্রস্তুত করার সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং র্যাব ও পুলিশের যোগ-সাজোসে উক্ত হামলার ভয়াবহ তথ্য উদ্ঘাটন করেন জানান।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি'র সভার তিন দিন পূর্বে এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা, র্যাব ও পুলিশের সাথে দলীয় কার্যালয়ে গোপন মিটিং করে এবং কিভাবে উক্ত সভায় হামলা করবে ও সভা পন্ড করবে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩০ আগস্ট ২০২২ বিএনপি'র সভায় আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনী ঐদিন হামলা চালায় এবং নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করে যাতে বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়।
তিনি আরো জানান, এই তথ্য সংগ্রহকালে পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে সাক্ষীদেরকে নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদান করা হয়েছে এবং এখনও বলা হচ্ছে, যদি কেউ কোর্টে সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে নানাভাবে হয়রানি, এমনকি গুমও করা হতে পারে। তিনি প্রশ্ন করেন, সাক্ষীরা আদৌ সাক্ষ্য দিতে পারবে কিনা?
তিনি বলেন, সোনাগাজী মডেল থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় নাই।
তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন ২০২১ এর সোনাগাজী মিউনিসিপ্যালিটির অধীনে ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসাবে আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু, আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং বিশেষত: সোনাগাজী উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে ডেকে তাহার মনোনয়নপত্র তুলে নিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় এবং বলে তা না হলে র্যাব দিয়ে আমাকে তুলে নেবে।" তিনি জানান, বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে তখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সোসাইটির প্রেস ও পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা