
ছাতক প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
পুর্ব শত্রুতার জের ধরে সুনামগঞ্জের ছাতক বাজারের এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্টানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এমন অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার (অর্ধ কোটি টাকা) ক্ষয়ক্ষতি হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী জহুরুল হক (৬৭)। জহুরুল হক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডের এমন ঘটনাকে দূর্ঘটনা নয় বরং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে সাংবাদিককদের জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রনজিত সরকার ও ছাতকের স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ নেতা দিলোয়ার হোসেন রাহী ও সৌরভ দাস ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের নিয়েই এমনটি ঘটিয়েছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমার ছেলে জুনায়েদ আহমদ জামিলের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তানিয়ার। তানিয়া কলেজে পড়াকালীন থাকতেই বখাটে ছাত্রলীগ নেতা দিলোয়ার হোসেন রাহী তাকে ইভটিজিং করতো। তানিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এর আগেও আমার বাসায় পুলিশ নিয়ে হামলা করেছিলো। কিছুদিন আগে আমার ছেলের সাথে তানিয়ার বিয়ে হলে দিলোয়ার রাহী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে আমার সন্তানের জীবন বাচাতে তাকে স্ত্রীসহ বাইরের দেশে পাঠিয়ে দেই। এরপরেই দিলোয়ার হোসেন রাহী আমাকে ও আমার পরিবারকে দেখে নিবে, আমাদের পথের ভিখারী করে ছাড়বে এমন হুমকি দিয়ে আসছিলো। তিনি আরো জানান, গতকাল সন্ধ্যায়ও সে তার ৮/১০জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ছাতক বাজারে আমার দোকানের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করেছে। বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুর রহমান ও বাজারের সিকিউরিটি গার্ড সবুজ আহমদ তারেক এ ঘটনার স্বাক্ষী বলে জানান তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর রাত সাড়ে পাচটায় ছাতক বাজারের জহুরুল হকের মালীকানাধীন চেইন শপ ‘হক সুপার শপ’ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অগ্নি সংযোগ করে পালিয়ে যায়। বাজারের সিকিউরিটি গার্ড অগ্নিকান্ডের বিষয়টি টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের একদল কর্মী এসে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে পোড়ে ছাই হয়ে যায় হক সুপার শপটি। এতে আনুমানিক ৫০লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ মাইনূল জাকির অগ্নিকান্ডের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছাতক বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুনে পোড়ানোর ঘটনা শুনেছি। দূর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না, তবে অভিযুক্ত চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা