
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : দক্ষিণ সুরমায় ছাত্রদলের সাথে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক ছাত্রদল নেতা ওয়াহিদ হোসেন ফাহিমের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওয়াহিদ হোসেন ফাহিমের পিতা মানিক মিয়া অভিযোগ করেন, তার পুত্র দক্ষিণ সুরমা তেতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত যুগ্ম সহসাধারণ সম্পাদক। তাই তাকে টার্গেট করেই ৪ এপ্রিল মিছিল থেকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় গতকাল ৫ এপ্রিল পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওয়াহিদ হোসেন ফাহিমকে। ডাক্তার জানিয়েছেন তার অবস্থা আশংকাজনক। সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওয়াহিদ হোসেন ফাহিম স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি আনন্দ মিছিল বের করেন। গত ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দক্ষিণ সুরমার মার্কাজ পয়েন্টে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়। তখন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলটিকে ধাওয়া করে। এসময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া করলে পুলিশের সাথেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় বেশ কিছু যানবাহন ও দোকানপাঠ ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে এলাকায় আতংক নেমে আসে। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আক্রমন জোরদার করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওয়াহিদ হোসেন ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওয়াহিদ হোসেন ফাহিম দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত যুগ্ম সহসাধারণ সম্পাদক। তিনি দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের বলদী গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র।
এ ব্যাপারে আলাপকালে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল সমাবেশ করে তেতলী রাস্তা অবরোধ করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার একটি টিম সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদল নেতা ওয়াহিদ হোসেন ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা