• ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নগরীতে শিবির নেতাকে বাড়িতে না পেয়ে ছোট ভাইকে মারধোর

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ৬, ২০২৩
নগরীতে শিবির নেতাকে বাড়িতে না পেয়ে ছোট ভাইকে মারধোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল ০৫ আগস্ট নগরীর পাঠানটুলায় শিবির নেতা আবুল হাসান আদনানকে বাড়িতে না পেয়ে তার ছোট ভাই আবুল হাসনাত আমান (২২) কে মারধর করেছে সন্ত্রাসীরা। আদনান ও আমান উভয়ই সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জের আরজু মিয়ার পুত্র। আমান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আবুল হাসান আদনান বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগরীর ৭ নং ওয়ার্ডের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। গতকাল মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত আবুল হাসান আদনানের নগরীর পাঠানটুলাস্থ শ্রাবণী আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এসময় আদনানের ছোট ভাই আমান ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আদনানকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় যে, তারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী। তাদের উর্ধতন নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে নির্দেশ আছে আদনানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার। তারা আরো জানায়, আদনান বিভিন্ন মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। সে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাকে এক্ষুনি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

এ সময় আমান তাদেরকে জানান যে, আদনান বাড়ি নেই। সে কোথায় আছে তাও তার জানা নেই। এ কথা শুনে সন্ত্রাসীরা তার উপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আদনান কোথায় আছে-এমন তথ্য না দেয়ায় তারা আমানকে মারধর করতে থাকে এবং বারবার আদনানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়।
একপর্যায়ে আমান ও তার মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উচিয়ে ধমক দিয়ে চলে যায়। যাবার সময় আমান ও তার পরিবারের সদস্যদের এই বলে শাসিয়ে যায় যে, যদি তারা আদনানকে তাদের হাতে তুলে না দেয় তবে তারা তার পরিবারের সকল সদস্যকে দেখে নেবে। পরে আহত আমানকে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আমানের পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তারা শিবির নেতা আবুল হাসান আদনানকে খুঁজছে। তাকে না পেয়ে আদনানের ছোটভাই আমানকে মারধর করেছে। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের কু-কর্মের প্রতিবাদ করার সাহস কারও নেই। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ভয় পায়। হামলাকারীরা সরকারী দলের কর্মী হওয়ায় তারা কোন আইনী সহযোগিতাও তারা পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় আদনানের মা আছিয়া বেগম কোতয়ালী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকার করে এবং একটি জিডি এন্ট্রি গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ডিউটি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, ঘটনাটি মামলা করার জন্য “ইনসাফিসিয়েন্ট” তাই তারা এ ঘটনার একটি জিডি গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন