
যুগভেরী ডেস্ক :
স্ত্রী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করায় রাজাধানীতে আহমেদ ওয়ায়েছ নিজাম (২৬) নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩) দিবাগত রাত ১১টায় উত্তরা রাজউক কলেজ এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। হামলার ঘটনায় আহত ওই ব্যবসায়ীকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই ব্যবসায়ী উত্তরা পূর্ব থানায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী আহমেদ ওয়ায়েছ নিজাম উত্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকায় তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে টঙ্গী কলেজে পড়ার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল আহমদ প্রায়ই তার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করতো। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামের স্ত্রী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল আহমেদের নামে নারী ও শিশু আদালত গাজীপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩) দিবাগত রাত ১১টায় উত্তরা ৬ নং সেক্টরে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা হতে ছাত্রলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী জুয়েল আহমেদ সহ অজ্ঞাতনামা ৪ জন ব্যবসায়ী আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামের পথরোধ করে তাকে আটক করে। পরে তারা ব্যবসায়ী আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামকে অপহরণ করে উত্তরা রাজউক কলেজ এর পিছনে খোলা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সন্ত্রাসীরা আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামের কাছে তার স্ত্রী সম্পর্কে নানা অশালীন ও মানহানিকর কথা বলে। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামকে আটকে রেখে তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেয় ছাত্রলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী জুয়েল আহমেদ। নারী ও শিশু আদালতে মামলা দেওয়ায় এবং তার নেতাদের কাছে অভিযোগ করার কারণে আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামে হত্যা করবে হুমকি দেয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল। তখন স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামের স্ত্রী পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সাহায্য চান। কিন্তু তাৎক্ষণিক পুলিশের কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। এসময় জুয়েল ও তার সহযোগীরা আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামকে লোহার রড এবং লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে। রাত আনুমানিক ৪ টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েল ও তার সহযোগীরা আহমেদ ওয়ায়েছ নিজামকে মারাত্মক জখম অবস্থায় মাঠে ফেলে চলে যায়। এক পর্যায়ে অনেক কষ্টে রাস্তায় বেরিয়ে পথচারীদের সাহায্য চান আহমেদ ওয়ায়েছ নিজাম। তখন স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহমেদ ওয়ায়েছ নিজাম সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসা শেষে তিনি জুয়েল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কন্ঠে জানান, এর পূর্বে ওই সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রীকে যৌন হয়রানি করেছে। আমার স্ত্রীর ভাইকে আক্রমণ করে মারাত্মকভাবে জখম করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছে। কিন্তু আমরা কোথাও ন্যায় বিচার পাচ্ছি না।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা