
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর এক নেতার উপর মৌলবাদী গোষ্ঠীর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
আহত এলডিপি নেতা আরিফুল ইসলাম (পিতা- তৈয়ব আলী, গ্রাম- ভোলারপাড়া, থানা- গোপালপুর) গোপালপুর উপজেলা এলডিপির একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, মৌলবাদী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঐক্যজোটভুক্ত অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি এলডিপির রাজনীতি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে তাকে দল ছাড়তে চাপ দিয়ে আসছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে প্রথমবার তাকে মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ২৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে বেলুয়া বাজার পোস্ট অফিসের সামনে দুজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে আটকিয়ে দল ছাড়ার জন্য আবারও হুমকি দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যায় নিজ খামার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ডান হাঁটুতে বড় ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। তার চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আরিফুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা মুখোশধারী হওয়ায় তিনি তাদের সনাক্ত করতে পারেননি, তবে কণ্ঠস্বর পরিচিত হওয়ায় ভবিষ্যতে দেখলে চিনতে পারবেন বলে জানান। ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুটা বিলম্বে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে গোপালপুর থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এলডিপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিরোধী রাজনৈতিক মত দমনে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো হলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা