• ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ! দেশটা কোথায় যাচ্ছে?

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ! দেশটা কোথায় যাচ্ছে?

গোয়াইনঘাট থেকে মীর সাব্বির:

গোয়াইনঘাট বাজারের প্রাণকেন্দ্রে একসময় জমজমাট ব্যবসা ছিল মো: সারোয়ার মাহমুদের। “পারুল এন্টারপ্রাইজ” ও “পারুল ক্যাটল ফার্ম”-এর ব্যানারে স্থানীয় অর্থনীতিতে তিনি একটি স্থায়ী অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু রাজনীতির নির্মম ছোবলে আজ সেই ব্যবসা শুধু অতীতের এক করুণ স্মৃতি।

মো: সারোয়ার মাহমুদের বাবা মোহাম্মদ আলী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা এবং এলাকার একজন সুপরিচিত সমাজসেবক। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালেই শুরু হয় প্রতিহিংসার অধ্যায়।

২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর দিনটি ছিল সেই অন্ধকারের সূচনা। গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান ও তার অনুসারীরা ‘রাজাকার’ ট্যাগ লাগিয়ে সারোয়ার মাহমুদের দোকানে হামলা চালায়। নিরস্ত্র সারোয়ার মাহমুদকে দোকান থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আঘাত করা হয় রড, লাঠি এবং ছুরি দিয়ে। পরে সেই দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ থানায় মামলা করতে যান, কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। আতঙ্কিত ও আহত সারোয়ার মাহমুদ প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে তার ভাই কাউসার আহমেদ রানা ভাইয়ের ব্যবসার হাল ধরেন। কিন্তু শান্তি তার কপালে সইল না। ১৪ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে সেই একই উপজেলা চেয়ারম্যান পুনরায় দোকানে এসে সারোয়ার মাহমুদের খোঁজ করে এবং অবস্থান জানাতে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান জানতে পারেন সারোয়ার মাহমুদ কানাডা চলে গেছেন। এই খবরে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

তারপর আসে সেই বিভীষিকাময় দিন ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। চেয়ারম্যান ও তার লোকজন হঠাৎই দোকানে হামলা চালায় এবং লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাউসার আহমেদ রানা বলেন, “পাশের দোকানদার সময়মতো সতর্ক না করলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।”

পরদিন, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে তিনি যখন থানায় গিয়ে বিচার চাইলেন, তখন পুলিশ মামলা না নিয়ে তাকে পরামর্শ দেয় সমঝোতার। একজন নাগরিক হিসেবে এটাই ছিল তার ন্যূনতম আশ্রয়—বিচারপ্রার্থিতার অধিকার। কিন্তু সেই আশ্রয়টুকুও যেন অদৃশ্য রাজনৈতিক ছায়ায় গিলে ফেলেছে।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ কাউসার আহমেদ রানা দৈনিক যুগভেরীর এ প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতকারে জানান, তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনীতি করিনি। আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই, সম্মানের সাথে ব্যবসা করে খেতে চাই।”

স্থানীয় লোকজন বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল এক ভয়াবহ বাস্তবতা—রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ যদি জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা হারায়, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব কোথায় দাঁড়ায়? গণতন্ত্র কি কেবল একদলীয় মতের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকবে? এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যবসা পুড়ে যাওয়ার নয়—এটি আমাদের সমাজ, বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির চেহারার প্রতিচ্ছবি। তারা আরও বলেন, সময় এসেছে, সবাই মিলে প্রশ্ন তুলি—এই দেশ কার?

সংবাদটি শেয়ার করুন