
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক কানাডা প্রবাসী ও নাগরিক ঐক্যের নেতা মোঃ রিপন মিয়ার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ জুলাই ২০২৪ ইং) গভীর রাতে চিলাউরা ইউনিয়নের বেতাউকা গ্রামের সেনু মিয়ার বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাহদিয়া মিম (৭) নামের এক শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিয়াছেন।
সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার বেতাউকা গ্রামের রাজা মিয়া সুবিধাবাদী রাজনীতি করতেন সে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। সেনু মিয়ার ছেলে নাগরিক ঐক্যের নেতা মোঃ রিপন মিয়ার সাথে রাজা মিয়ার রাজনৈতিক মতপার্থক্য দেখা দেয়। যার ফলে রাজা মিয়া মোঃ রিপন মিয়াকে তাহার রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্যের সকল কার্যকলাপ বন্ধ করতে বলে এবং নাগরিক ঐক্যের রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেতে বলে। পদত্যাগ না করলে রিপন মিয়ার পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং বাজারে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে এমনকি রাজা মিয়ার কথা না শুনলে রিপন মিয়ার বাড়ী ঘর পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেয় রাজা মিয়া। পরবর্তীতে রাজা মিয়া বিভিন্ন সময়ে রিপন মিয়াকে হত্যার জন্য চার বার মারপিঠ করে, ভাগ্যক্রমে রিপন মিয়া বেঁচে যান। রাজা মিয়ার হুমকি ও মানুষিক নির্যাতন ও প্রান ভয়ে রিপন মিয়া ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ইং তারিখে প্রবাসে চলে যান। প্রবাসের খবর পেয়ে রাজা মিয়া ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা বুধবার গভীর রাতে রিপনের বাড়িতে এসে সেনু মিয়া ও পরিবারের লোকজনকে নাম ধরে ডাকাডাকি করে ঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে এমনকি এক পর্যায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে বসত ঘরের পিছনে অগ্নিসংযোগ করে। অগ্নিসংযোগের ফলে রিপন মিয়ার স্ত্রী শিশুসহ ও সেনু মিয়া এবং ঘরের লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে যান সেনু মিয়ার ভাইয়ের মেয়ে মাহদিয়া মিম তালুকদার বয়স আনুমানিক ৭ বৎসর। পরবর্তীতে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও ঘরের লোকজন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুন নেভানোর জন্য স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পূর্বে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সেনু মিয়ার পাশের বাড়ীর ও স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার গভীর রাতে সেনু মিয়ার বাড়ীতে আগুন লাগানো হয়। তারা তখন ডাকাডাকি করে বলেন তোমরা তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেড়িয়ে এসো, তোমাদের ঘরের পিছন দিকে রাজা মিয়া ও আরও দুই জন লোক আগুন দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। রাজা মিয়াকে আমরা চিনতে পেরেছি, অন্যদের চিনতে পারিনি।
এ ব্যাপারে রিপন মিয়ার বাবা সেনু মিয়া বলেন, বুধবার রাত ১২.৩০ ঘটিকার সময় রাজা মিয়া তার বসত ঘরের দরজার সামনে এসে নাম ধরে ডাক দিয়ে বলে তকে বলেছিলাম তর ছেলে যেন দেশ ত্যাগ না করে। কিন্তু তুই কথা না শুনে গোপনে তর ছেলেকে কানাডা পাঠিয়ে দিলে। দরজায় কয়েকটা লাথি মারে দরজা ভাঙ্গার জন্য তখন আমি চিৎকার করলে রাজা মিয়া বলে তর ঘরে এখন আগুন লাগিয়ে দিবো, সবাইকে আগুনে জালিয়ে মারবো, এ কথা বলার আনুমানিক ৫-৭ মিনিট পর হঠাৎ বাড়ীর আশপাশের লোকজন চিৎকার করে বলে তোমরা ঘর থেকে বের হও তোমাদের ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে। তখন সবাই বের হলেও মাহদিয়া মীম ভেতরে থেকে যায়। পরে তার চিৎকার ও কান্না শুনে দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। জগন্নাথপুর থানার ওসি কাজী মুক্তাদির হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে খবর পেয়েছেন। তবে এখানো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।