আওয়ামী লীগের ১১১ নেতাকর্মীর নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত August 29, 2024
আওয়ামী লীগের ১১১ নেতাকর্মীর নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা

যুগভেরী ডেস্ক ::: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষ্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৮ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের মৃত ছুরত আলীর ছেলে মো. আক্কাছ আলী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-৩৪, তারিখ- ২৮/০৮/২০২৪ ইং। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ১১১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ২৫০/৩০০ জনকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুনু মিয়া।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, ২৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আকবর হোসেন অপু, সাধারণ সম্পাদক হাবিব আহমদ সাফাত, টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা প্রজন্ম লীগের সভাপতি এস এম আলী হোসেন, ১৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌসিফ নিমাদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ২৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমদ, ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ, ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশীদ সুমন, জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান, নগরীর মিরাপাড়া এলাকার ছাত্রলীগ নেতা আব্দুস সালাম রাহাত, সিলেট মহানগর যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ফাইয়াজ খান সলিড, ১৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সেবুল আহমদ সাগর, ৭ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি হারুন আহমদ, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিত রিপন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য জাহের সুমন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাট, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পুজন, ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিক হাসান ডালিম ওরফে টুকাই ডালিম, সিলেট মহানগর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. মুহাইমিন চৌধুরী বাপ্পী, ২৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ, ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলক, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুক, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদসহ ১১১ জনের নাম মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদি মো. আক্কাছ আলী উল্লেখ করেন, তার ছেলে মো. রুবায়েদ মিয়া সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার নান্না বিরিয়ানী নামক খাবারের হোটেলের কর্মচারী। গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নগরীর নয়াসড়ক পয়েন্টে ছাত্র-জনতার সাথে অবস্থান নেন রুবায়েদ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর বিভিন্ন দিক থেকে মোটরসাইকেলে চেপে এজাহারনামীয় আসামিসহ কয়েক’শ সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাদির ছেলে রুবায়েদ মিয়া নয়সড়ক পয়েন্ট সংলগ্ন জামে মসজিদের দুতলায় অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবায়েদের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং পরবর্তীতে মসজিদের দুতলা থেকে রুবায়েদকে নিচে ড্রেনে ফেলে দেয়। সেখানেও আহত রুবায়েদের উপর নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেন থেকে তুলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান পুলিশ আহতদের গ্রেপ্তার করছে। তখন গ্রেপ্তার এড়াতে রুবায়েদকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রুবায়েদের অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তাকে আইসিউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত রুবায়েদের বাবা আক্কাছ আলী জানান, পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে আমার ছেলে আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে বেডে কাতরাচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখনো বাইরে বুক ফুলিয়ে হাটছে। আমি এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুনু মিয়া বলেন, নয়াসড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত নান্না বিরিয়ানীর কর্মচারী রুবায়েদ মিয়ার বাবা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন