
উত্তরা (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ `লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজু খানের বাসায় গতকাল গভীর রাতে বাসার গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তল্লাশী চালিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একটি টিম। এসময় পুলিশের সাথে স্থানীয় বিএনপি – জামাত এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সাথে ছিলেন এবং লূটপাট ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগ ভোক্তভোগী পরিবারের।
জানা যায়, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একটি টিম গতকাল ভোর রাত ৪টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী রাজু খানের বাসায় তল্লাশী চালায়। এসময় পুলিশ বাসার গেট খুলে দিতে বললে পরিবারের সদস্যরা জানান রাজু খান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে আছে। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা লাথি দিয়ে বাসার গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে যায়। এসময় তারা তল্লাশী চালিয়ে বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে নিয়ে যায়।
তবে রাজু খানের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, রাত ৪টার দিকে পুলিশের একটি টিম ও স্থানীয় জামাত-বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বাসার সামনে এসে রাজুর নাম ধরে অকথ্য বাসায় গালিগালাজ শুরু করে গেট ভাংচুর শুরু করে। পরবর্তীতে গেট ভেঙ্গে পুলিশের সামনেই নেতাকর্মীরা বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র লূটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পুলিশ একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করলেও বাকী আরো ২টা ল্যাপটপ, ৩টি ফোন, ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লূটপাট করে। পরিবারের সদস্যদের পুলিশের সামনেই পিস্তল ঠেকিয়ে রাজুকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। দেশে আওয়ামী লীগের কোন কর্মীর জায়গা হবে না জানিয়ে তারা রাজুকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।
এদিকে এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজু খান ৫ই আগস্টের ঘটনায় ২টি মামলার এজহার নামীয় আসামী। মামলার রুটিন চেকআপের অংশ হিসেবেই গতকাল রাত তার বাসায় তল্লাশী চালানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা গেট না খুলায় পুলিশ বাধ্য হয়ে গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে। লূটপাটের অভিযোগ সঠিক নয় জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
পুলিশের সাথে জামাত-বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী নেতাকর্মীরা কেন ছিলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলো রাজুর বাসা চিনিয়ে দিতে। তবে তারা কোন লূটপাট কিংবা হুমকি দিয়েছেন কি না তা তার জানা নয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
রাজু খান বিগত আড়াই বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন, তাহলে তিনি কী করে ৫ই আগষ্ট ঘটনার মামলায় আসামী হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর উত্তর ২টি মামলার বাদীগণই দিতে পারবেন। আমার কাজ হচ্ছে আসামী ধরে দেওয়া আমি সেই কাজই করে যাচ্ছি। তিনি আর কোন কথার সুযোগ না দিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কল কেটে দেন।
এদিকে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে লন্ডন প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা রাজু খানের পিতা বলেন, ‘উচ্ছশিক্ষার্থে প্রায় আড়াই বছর আগে আমার ছেলে যুক্তরাজ্যে চলে যায়। জুলাই আন্দোলনের সময়ে সে লন্ডনেই ছিল। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ঢাকায় উত্তরা পশ্চিম থানায় তাকে আসামী করে দুটি মামলা হয়েছে। যেটি সম্পূর্ণ ভুয়া। অর্থের বিনিময়ে এবং স্থানীয় বিএনপি-জামাত তথা ছাত্রদল-শিবির এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের পরামর্শে আমার ছেলেকে হয়রানী করতে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।‘
তিনি আরো জানান, দেশে থাকাকালীন সময়ে আমার ছেলে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকার কারণেই তার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আর এখন পুলিশী তল্লাশীর নামে আমার বাসা ভাংচুর, লুটপাট ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।