• ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কুমারপাড়ায় ছাত্র-জনতার উপর হামলায় ৮৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০/৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২৪
কুমারপাড়ায় ছাত্র-জনতার উপর হামলায় ৮৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০/৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট নগরীর কুমারপাড়ায় ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় সিলেটের আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল (১ অক্টোবর) এসএমপির কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন জুলাই আন্দোলনে আহত নগরীর ব্রজনাথটিলার মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র মোঃ ছবর আলী ছাবু (৫৫)।

মামলায় ৮৫ জনের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আকবর হোসেন।

মামলায় এজহারনামীয় আসামিরা হলেন- সিলেট মহানগর ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজুয়ান আহমদ (৫০), সাধারণ সম্পাদক শফিকুর ইসলাম আলকাছ (৫৫), জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ (৫৩), জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এহিয়া চৌধুরী ইয়াহইয়া (৪৬), আওয়ামী লীগ, যুবলীগম স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীসহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে মাহির আহমদ সৌরভ (২২), আব্দুল মালেক (৫৫), তপন মিত্র (৫৬), আব্দুল্লাহ চৌধুরী (২৩), সৈয়দ রাসেল আহমদ (৩৫),আক্তার আহমদ (৫৫), সুরত মিয়া (৫৫), বেলাল আহমদ (৫০), নাইমুর রহমান সাহান (২৭), রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী (৩৫), মো: সাজু আহমদ (২৮), রুম্মান রশীত তাপাদার (২২), মহিতোষ চক্রবতী অংকুশ (২৩), তারভীর আহমদ (২৪), আব্দুল্লাহ সালেহ মুন্না (৪৫), সাইদুল আলম (২১), মুহিন আহমদ (২০), রাসেল মিয়া (৪০), ইয়াসিম আহমদ (৩২), নাজমুল আরেফিন আদিল (২৬), রনি তালুকদার (৩৩), বিশাল দে (২৪), তানিন আহমদ (২৪), দিগয়ন দে দীপ (৫০), সোহাগ আহমদ (২২), মাহমুদুর রহমান (৩০), সোহাগ আহমদ (২১), সাব্বির আহমদ (২১), সৈয়দ মারুফ (৩৫), সৈয়দ সাদিকুজ্জামান সাদি (৩০), জুমন আহমদ (৩২), রফিক (তাহেরী) (২৩), আহমেদ শরীফ চৌধুরী (৫০), রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (৫০), তরিকুল ইসলাম চৌধুরী মুবিন (৩৫), মুমিনুল হক (৫০), আনোয়ার হোসেন (৪০), শাহ মুহিদ মিয়া (৪০), মুহাম্মদ সিদ্দিক হায়দার (৪৫), আব্দুল মান্নান (৪৫), ইয়ামিন হোসেন রিয়াদ (২৫), মখলিছুর রহমান বাবলু (৫৬), দরবেশ আলী (৩৫), রিফাত আহমদ উরফে ককটেল রিফাত (৩২), হাবিব আহমদ সাফাত উরফে রামদা সাফাত (২৫), সালেহ আহমদ (৩২), শামীম আহমদ (২৮), নুরুল ইসলাম (৫০), এনামুল ইসলাম (৩২), আঃ খালেক (৪৭), জিতু মিয়া (৩৫), সোহেল মিয়া (৩২), ধরনী পাত্র (৪৫), আকরাম হোসেন (৪৮), আব্দুল মান্নান (৫০), জামাল আহমদ উরফে কালা জামাল (৩৮), আব্দুস সালাম (৪২), আলী আক্তার চৌধুরী রুমি (৪২), আতিক হাসান ডালিম (৩৫), হুমায়ুন কবির হুমান (৩৪), আফজল আহমদ (৪৮), সুজন সিদ্দিকী (৪৩), আজমত আলী (৪৫), ইফতেখার হোসেন সুহেল (৪০), জুনু মিয়া (৪২), পাঙ্গাস উরফে বাবুল (৪৫), বেলাল খান (৪৫), বদরুল হোসেন কামরান (৪৫), জসিম উদ্দিন (৪৫), আব্দুল আজিজ (৪২), আলী হোসেন (৪৫), ফয়ছল আহমদ (৩৮), আব্দুল আজিজ (৪০), নজমুল ইসলাম নজমুল (৩৩), বিজিত চৌধুরী (৬০), লাভলু আহমদ, বিধান কৃষ্ণ দাস সরকার (৫০), দেওয়ান সাকিব চন্দন পাশি (২৯), রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী (৩৩), মছব্বির আলী (৫০) ও খালেদ মিয়া (৩৫)। এছাড়াও আরো ৩০০/৪০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী।

বাদির অভিযোগ- ৪ আগস্ট দুপুর ২ ঘটিকার দিকে বাদী নগরীর কুমারপাড়া পয়েন্ট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সাথে উপস্থিত হন। এসময় উল্লিখিত আসামীগণসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪-৫ শত নেতাকর্মী তাদের হাতে থাকা রিভলবার, শর্টগান, পিস্তল দিয়ে বাদী ও ছাত্র-জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এসময় কয়েকজন আসামী তাদের হাতে থাকা ককটেল ও হাতবোমা উপস্থিত ছাত্রজনতার দিকে ছুড়তে থাকেন। এসময় বাদীর মাথা,পা ও চোয়ালসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক গুলি বিদ্ধ হয়।বাদীসহ আরো অনেক বিক্ষোভকারী ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন। আসামীগণ চলে যাওয়ার পর আশপাশের ব্যক্তিগণ এসে বাদীসহ আহতদের গ্রেফতার হয়রানী এড়াতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবর্তে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাদী দফায় দফায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন