
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন আহমদ মুক্তা ও তার পুত্র ছাত্রদল নেতা মুনকাছির তাহমিন জারিফ অপহরন মামলার তদন্তরিপোর্ট প্রকাশ করেছে পুলিশ। গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদ রানা দুই মাস তদন্ত শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেছেন। মামলার এজাহারভূক্ত আসামী জামায়াতে ইসলামীর ৮ নেতৃবৃন্দের সাথে আরো ২ জনকে অন্তর্ভূক্ত করে মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রথমে মামলাটি অপহরণের ধারায় দায়ের করা হলেও তদন্তরিপোর্টে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টে তিনি প্রকাশ করেন, বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা ও তার পুত্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রচার করে আসামীদের রোষানলে পড়েন। আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে হুমকি ধামকি দিলেও তারা তাতে কর্নপাত করেননি। তাদেরকে অপহরণের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে। জামায়াত নেতাদের পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় আসামীগণ আলাউদ্দীন আহমদ মুক্তা ও তার পুত্র মুনকাছির তাহমিন জারিফকে অপহরণ করে আসামীরা। ২০২৪ ইং সালের ৬ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে আম্বরখানাস্থ নূরে আলা কমিউনিটি সেন্টারের সামন থেকে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অপহরণ করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আলুরতল এলাকায় নিয়ে যায় আসামীরা। পরে আসামীরা রাতের আধারে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত আলুর তল এলাকায় তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাটিতে পুতে ফেলে। ঘটনাস্থলে হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া আসামীগণ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাই মাটিতে পুতে রাখা লাশ উদ্ধারে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে, গুম হওয়া বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন আহমদ মুক্তার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই জামায়াত নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে তাদেরকে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। তারা জানান ৬ জানুয়ারি বিএনপি নেতা ও তার পুত্র অপহরণ হলেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পুলিশ মামলা নেয়নি। তাদেরকে উদ্ধারেরও কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত ৫ আগস্ট আওয়মীলীগের পতনের পর মামলা দায়ের করলেও বর্তমানে জামায়াত নেতৃবৃন্দের আতংকে রয়েছেন তারা। মৌলবাদের হুমকির মুখে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা