
বিশেষ প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে গতকাল (১০ নভেম্বর) এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের প্রতিনিধিদের দ্বারা জায়গাজুড়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন থানা ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,( তোফায়েল আহমেদ) বলে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। আহত তোফায়েলকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করে গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ভয় প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, ১০ নভেম্বরের এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরার পথে কমলগঞ্জের পতন ঊষার ইউনিয়নের প্রধান সড়কে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু সদস্য। তারা লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তোফায়েলকে ভারিভাবে আঘাত করে বলে অভিযোগ। আঘাতের ফলে তীব্র রক্তক্ষরণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গামছা খুঁচিয়ে জখম হন তিনি। পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।
সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, তোফায়েলকে পায়ের ভেতরে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে গভীর কাটা ও ছুরি চামড়ায় প্রবেশের মতো আঘাত আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা আরও বলেছেন যে গুরুতর আঘাত হলে আনূতনিক পর্যায়ে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
তোফায়েলের পরিবার দাবি করছে- হামলার কয়েক দিন পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিরা তাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলেন যে হামলাকারীরা বলে দিয়েছে যদি পরিবার গ্রাম ছাড়ে না তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর আরও চালিয়ে যেতে পারে এবং বিশেষ করে তোফায়েলের স্ত্রী ও ছোট সন্তানের ওপর প্রাণহানি ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীরা তোফায়েলের কাছ থেকে তাঁর হার্ডওয়্যার ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।
পরিবার জানায়, ওই ব্যাবসাটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিল এবং ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়ার ফলে তাঁদের পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তার অভাবে গ্রাম ত্যাগ করার কথাও ভাবছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে অভিযোগ পেয়েলে তদন্ত শুরু করা হবে তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন আনুষ্ঠানিক জিডি দায়ের করা হয়নি বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা দ্রুতই থানায় অভিযোগ দেবেন এবং আশঙ্কা করছেন যে স্থানীয় ক্ষমতাশালী কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলা পরিকল্পিতভাবে ও সংখ্যায় বেশ বেশভাবে সংগঠিত ছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন যে হামলাকারীরা আগে থেকেই তোফায়েলের গতিবিধি অনুসরণ করছিল এবং সুযোগ বুঝে তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন যে আহত ব্যক্তিকে লাঞ্চিত করে আহত অবস্থায় রাস্তােই ফেলে রাখা হবে বলে মনে হচ্ছিল যদি দ্রুত প্রত্যক্ষদর্শীরা হস্তক্ষেপ না করে।
এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন এবং মানবাধিকারকর্মীরা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কিছু মানবাধিকার নেতারা পুলিশ ও প্রশাসনকে তৎপর হয়ে মুমকিন বিপদ থেকে আহত ব্যক্তির পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে, আহত তোফায়েল এবং তাঁর পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শুরু করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করবে এবং পরিবারকে পুনরায় স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা