
চুনারুঘাট প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দুর্গাপুর বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাকারিয়া স্টুডিও নামের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়েছে। এসময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ২ যুবক আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, উপজেলার জিকুয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামীম মিয়া (৩৫) ও সুজন মিয়া (২৯)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় ৭ নং উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর নেতৃত্বে ৭-৮ টি মোটরসাইকেলে চেপে বিএনপি ও জামায়াতের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিয়ে দুর্গাপুর বাজারে জাকারিয়া স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট চালায়। দোকান মালিক মাধবপুর গ্রামের মৃত মো. আকবর আলীর ছেলে মোহাম্মদ কাউছার হোসাইন তখন দোকানে ছিলেন না । হামলার সময় দোকানে থাকা তার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে শামীম মিয়া ও সুজন মিয়া দুর্বৃত্তদের বাধা দিলে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। তাদের আর্তচিৎকারে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক কাউছার ছুটে এলে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম ও সুজনকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দোকান মালিক কাউছার হোসাইন অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপি নেতা ও ৭ নং উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর নেতৃত্বে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ আমার অভিযোগ আমলে নেয়নি। উল্টো আমাকে ও আমার প্রবাসী বড়ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ৭ নং উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর আলম বলেন, দুর্গাপুর বাজারে হামলার খবর শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। আমার জানামতে, এজাজ ঠাকুর চৌধুরী একজন সজ্জন ব্যক্তি।
তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অংশ হিসেবে চুনারুঘাট থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। চুনারুঘাটে আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সন্ধান জানা মাত্র পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা