
চুনারুঘাট প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় নবীর হোসেন নামের নিষিদ্ধঘোষিত এক ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (১ মার্চ) রাত ৯টায় উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অভিযোগ, উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থকেরা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আহতরা বর্তমানে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের চুনারুঘাট উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নবীর হোসেন বর্তমানে প্রবাসী। তার সাথে চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপি নেতা ও উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর রাজনৈতিক পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করায় নবীর হোসেন ও তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন চেয়ারম্যান এজাজ। এছাড়া, ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি এজাজ ঠাকুরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে সেসময় মামলা দায়ের করেন এজাজ। ওই বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর পূর্ণ মাত্রায় বিরোধীদের দমনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বিএনপিপন্থী ওই চেয়ারম্যান। নিজ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় নবীর ও তার পরিবারকে ফাঁসাতে উঠেপড়ে লাগেন এজাজ। একাধিকবার নবীর হোসেনের পরিবারকে হয়রানির জন্য তার বাড়িতে পুলিশ ও র্যাব পাঠান তিনি। নবীর হোসেনের বাবা মো. উস্তার মিয়া বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে ক্ষিপ হয়ে উঠেন এজাজ চেয়ারম্যান। এর প্রেক্ষিতে গত শনিবার রাত ৯টায় এজাজ ঠাকুর চৌধুরী তার অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মাধবপুর গ্রামে নবীর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা নবীরের বাবা মো. উস্তার মিয়া (৭০) ও মা মোছা. আরিফা খাতুন (৬০) আহত হন। তাদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে এজাজ ঠাকুর হুমকি দিয়ে যান যে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিংবা থানা পুলিশে খবর দিলে পরিবারের সবাইকে খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখা হবে। এরপর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
প্রতিবেশী ফুল মিয়া জানান, মো. উস্তার মিয়ার ছেলে নবীর হোসেনের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুরের আগে থেকেই রাজনৈতিক শত্রুতা ছিল। বর্তমানে নবীর দেশের বাইরে। তাকে না পেয়ে তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে এজাজ চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী মো. উস্তার মিয়া জানান, আমার বাড়িতে বারবার পুলিশ পাঠিয়ে ডাকাতির মামলার আসামি হিসেবে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করানোর অপচেষ্টা করছে চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরী। অথচ আমার ছেলে দেশেই নেই। সে ডাকাতির ঘটনার সাথে যুক্ত না। এমনকি মামলায়ও তার নাম নেই। অথচ এজাজ চেয়ারম্যান তার গায়ের জোর খাটিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা করে আসছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমার বাড়িতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের কাছে গিয়ে কোনো লাভ নেই। থানা পুলিশ সবই এজাজ ঠাকুরের পকেটে।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত উবাহাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ ঠাকুর চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুর আলম জানান, আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি বা এধরণের কোনো ঘটনার খবরও পাইনি। কোনো অভিযোগ এলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।