
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও সাবেক ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা অপরাজিত দেবের উপর চাঁদাবাজি ও ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণেই তিনি ও তার স্বজনরা হামলার শিকার হচ্ছেন।
অপরাজিত দেব ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে স্ত্রী ডাক্তার ফাল্গুনী দেব এবং দুই বছরের কন্যাসন্তানসহ যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন অসুস্থ মাকে দেখতে। দেশে ফিরে তিনি পড়েন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মুখে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ৩০ মার্চ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা হোসানুল হক ও তার সহযোগীরা তার কাছে তিন কোটি টাকার চাঁদা দাবি করে। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় হুমকি ও দমন-পীড়ন।
এরপর ২ এপ্রিল রাজনগর বাজার এলাকায় বিএনপি নেতা আনোয়ার মিয়া ও তার অনুসারীরা তাকে ঘিরে ফেলে। সংখ্যালঘু পরিচয়ে তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় এবং আবারো চাঁদার চাপ দেওয়া হয়। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।
কিন্তু পরিস্থিতি এখানেই থেমে থাকেনি। বিগত ৫ এপ্রিল তারিখে অপরাজিত দেবের উপর ফের একবার সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর একদিন পর, ৬ এপ্রিল, তার নিজ বসতবাড়িতে সঙ্গবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তার মা গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইসাথে দুর্বৃত্তরা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনগর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখায়। একপর্যায়ে থানার এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে যথাযথ তদন্ত শুরু করা হবে।”
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে। বিশেষ করে যারা আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তারা বেশি হামলার শিকার হচ্ছেন।
অপরাজিত দেব দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতার দাপট ব্যবহার না করে তিনি বরাবরই ন্যায় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে কাজ করেছেন, দাবি করেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা