উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা এভাবেই নারী উদ্যোক্তা ইফ্ফাত বিনতে বাছিত এর বাসায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে সম্পুর্ন বাড়িটি মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরীর এক নারী উদ্যোক্তা ও একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপকের বাসায় দ্বিতীয় দফায় হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে একদল মৌলবাদী উগ্র সন্ত্রাসী। গতকাল ৫ই মে ২০২৫ সোমবার সকাল ১০ টার পর থেকে এ ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট নগরীর আম্বরখানায়, নিজস্ব বিল্ডিংয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান দিয়া বিউটি পার্লার এন্ড স্পা (২০১৪ ইং), টাইটানিক রেস্টুরেন্ট (২০১৬ ইং) ও টুইন বিল্ডার্স এন্ড কন্সট্রাকশনের (২০১০ ইং) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং সিলেট কমার্স কলেজের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপিকা (২০১০ইং থেকে ২০২৩ইং সাল পর্যন্ত) ছিলেন। নগরীর আম্বরখানা শুভেচ্ছা-১০ নিবাসি, এয়ারপোর্ট থানাধীন নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সিলেটের ব্যবসায়িদের সর্ববৃহত সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য, মেসার্স ইসহাক এন্ড সন্স কন্সট্রাকশনের প্রোপাইটার ইলিয়াছ আহমদ জুয়েলের স্ত্রী ইফ্ফাত বিনতে বাছিত এর বাসায় ২০/২৫ জনের মৌলবাদী উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সঞ্জিত হয়ে গতকাল ৫ মে ২০২৫ সোমবার পূর্বের জ্বালিয়ে দেয়া তাদের বাসার অবশিষ্ট কিছু অংশ যা ছিল তাদের দাদার আমলের তৈরি বাড়িটিতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সন্ত্রাসীরা এ সময় নারী উদ্যোক্তা ইফ্ফাত ও তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে থাকে। তাদের না পেয়ে ওই সময় সন্ত্রাসীরা বাসায় ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট ও এক পর্যায়ে পুরো বাসাটি মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়। এমনকি যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা বাসার টিন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা যায় যে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে বেশ কিছু লোকজন এর আগে এসে হুমকি দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- সিলেট নগরীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাবলু, শাহানুর এবং এদের সহযোগীরা এলাকার আরও কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ইসলামী মৌলবাদী উগ্র সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসায়ী ও শিক্ষিকা ইফ্ফাত এর কাছে চাঁদা দাবী করে আসছিলো। শুধু তাই নয় বাবলু গংরা বার বার নারী উদ্যোক্তা ইফ্ফাত এর বিউটি পার্লার এবং অন্যান্য সমাজসেবা মুলক কর্মকান্ড ও নারীর অধিকার সম্পৃক্ত কার্যক্রমকে ইসলাম পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে আসছিল। উগ্রপন্থীরা ২০২২ সাল থেকে বারবার বিভিন্ন ভাবে তার কার্যক্রম বন্ধ করতে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিল। এমনকি তাদের এক সন্তানকে গুম করে দুদিন পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেয়। পাশাপাশি তারা শিক্ষিকা ইফ্ফাতকে শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে আসছিল। তাদের এমন ক্রমাগত হুমকীর মূখে ২০২৩ইং সালের জুন মাসে ইফ্ফাত গোপনে বাচ্চাদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।
জানা যায়, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালে দেশের অস্তিতিশীল পরিস্থিতিতে এই উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীরা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পুরো বাড়িটি জ্বালিয়ে দেয়। এর আগে তারা বাড়িটিতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ওইদিনের অগ্নিকান্ডে তার বাড়ির সবকিছু পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে যায়। নিজ চোখের সামনে এমন বর্বোরোচিত ঘটনায় ঐ সময় ইফফাত বিনতে বাছিত এর শ্বশুর অর্থাৎ ইলিয়াছ আহমদ জুয়েল এবং ভাই সুয়েল আহমদ পিতা ইছহাক আহমদ মারাত্বক ভাবে মানসিক আঘাত পান এবং শ্বাসনালি সমস্যা দেখা দেয় এর পর পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এ অবস্থার মধ্যে ও তাদের বাবা ইসহাক আহমদ থানায় মামলা করতে চাইলে ও দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্হিতিশিল পরিস্হিতির কারনে কোনোরুপ মামলা বা জিডি করা যায়নি। তখন থানা থেকে বলা হয় যাদের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র আছে তা জমা দিতে হবে। ঐ সময় তাদের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রে জিডি মুলে জমা দেওয়া হয় এবং সেই জিডিতে ইফ্ফাত এর বাসায় হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালের আই সি ইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এমন কি তাদের বাবার শেষ দেখা বা জানাজা ও দাফনে কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি পুত্রবধূ ও ছেলেরা। ঐ দিনের পর থেকে ইলিয়াস আহমদ জুয়েলকে আর দেখা যাইনি। শোনা যায় উনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আরো জানা যায়- তাদের বড় ভাই সুয়েল এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটার ব্যবসায়ি সুহেল আহমদকে গত ২০২৩ ইং সালের অক্টোবর মাস থেকে জনসম্মুক্ষে আর দেখা যায়নি। কিন্তু এর পরও সন্ত্রাসী ও উগ্র ইসলামি মৌলবাদিরা থেমে থাকেনি। তারা প্রায়ই ইফ্ফাত ও তার স্বামী ইলিয়াছ আহমদ জুয়েল এবং তার বড় ভাই ব্যবসায়ি সোহেল আহমদকে নিয়মিত এলাকা ও বাসায় এসে খুঁজতে থাকে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন- ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে এই ইসলামী উগ্রপস্থী সন্ত্রাসীরা আরো ভয়ঙ্কর রূপে ফিরে এসেছে এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছে। তারা ইফ্ফাত বিনতে বাছিত এর বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান জবর দখলের পায়তারা করছে।
উগ্রপন্থীরা বলছে যে- তারা হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর পূণ্যভুমিতে কোন নারীর বেপর্দা চলাফেরা ও সমাজ নষ্ট করার কার্যকলাপ মেনে নিবে না। তারা এটাও বলে বেড়াচ্ছে যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পরিবারের বাকি সদস্যদের পরিনতি ও ভয়াবহ হবে।