
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের এক হেফাজত নেতার ছেলে কর্তৃক এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানার মুহাম্মদপুর এলাকারা বাসিন্দা আশিক উদ্দিনের কন্যা সালেহা বেগম (২৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভোক্তভোগীর পরিবার সুনামগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৮৭/২৫।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গতকাল টিউশনি শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সালেহা বেগম। পথিমধ্যে তাকে জোরপূর্বর তুলে নিয়ে একটি পরিত্যাক্ত গোদামঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে রাসেল মিয়া নামক এক যুবক। তিনি সুনামগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-সম্পাদক মো: রানু মিয়ার ছেলে।
সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, সালেহা বেগমের চিৎকারে পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজন লোক দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন রাসেল মিয়াসহ আরো তিন জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হেফাজত নেতার প্রভাবে রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও ইভটিজিং, ধর্ষণ, ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, হত্যার হুমকি রয়েছে।
এর চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজের এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাসেল মিয়ার পিতা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-সম্পাদক হওয়ায় তার প্রভাবে রাসেল বিভিন্ন কর্মকান্ড করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট হেফজতে ইসলামের নাম ভাঙিয়ে রাসেল মিয়া বিভিন্ন সময় নারীদের ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, জমি দখলের মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ জুন নিজ কর্মস্থল থেকে বড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাসযোগে ওই নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে রাসেল ও তার সহযোগিরা। ধর্ষণের শিকার ভোক্তভোগীর সুনামগঞ্জ সদরের নতুন পাড়ার বাসিন্দা শিবেন্দ্র কুমার কর এর কন্যা বাসন্তী রানী কর। বাসন্তী রানীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সংস্কৃত কলেজের হিসাব রক্ষক বাসন্তী রানী কর তার কর্মস্থল থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে মরাটিল্লা নামক রাস্তায় এসে পৌঁছামাত্র একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসযোগে বাসন্তী রানীর রিকশা গতিরোধ করে কিছু বুঝার আগেই তাকে রাসেল তার নাকে স্প্রে দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর বাসন্তী নিজেকে আবিস্কার করে একটি রুমে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। সাথে সাথে রাসেল তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং অমানিক নির্যাতন করে। পরে রাসেল তার আরো তিনজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে বাসন্তী রানী কর এর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তার ভিডিও রেখে ব্ল্যাকমেইল করে তাকে থানা-পুলিশে না যেতে হুমকি দেয়া হয়। সুনামগঞ্জের হেফাজত নেতা মো: রানু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া শিবেন্দ্র কুমার কর এর কন্যা বাসন্তী রানী কর এর উপরআগে থেকেই কুনজর ছিল। রাসেল এর অত্যাচারে, ভয়ে তিনি তার নিজ বাড়ি ছেড়ে বোন জামাইয়ের বাড়িতে থাকতেন এখানে থেকেই তিনি তার পড়াশোনা শেষ করেন এবং ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর মেধার ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সংস্কৃত কলেজের হিসাব রক্ষক হিসেবে যোগদান করেন বাসন্তী রানী। আসা-যাওয়া করার সময় রাসেল মিয়ার নজরে পড়েন বাসন্তী রানী কর। এর পর রাসেল মিয়া ও তার সহযোগিরা মিলে পূর্ব পরিকল্পনা করে বাসন্তী রানীর কর কে পথিমধ্যে থেকে তুলে নিয়ে এই ঘটনা ঘটায় বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর বাসন্তী হসপিটাল থেকে ফিরে থানায় মামলা দিতে গেল পুলিশ তার মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মামলা করতে যাওয়ার বিষয়টি রাসেল মিয়া জানার পর তাকে মৃত্যু হুমকি দেয়। পরে উপায় না দেখে এসব ঘটনায় ভিত হয়ে বাসন্তী রানী কর দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এরপরও রাসেল মিয়া তার বাড়িতে এবং তার বোনের বাড়িতে এসে তার সন্ধান চেয়ে বাসায় এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে বাসন্তীর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেফাজতে ইসলামের নেতা মো: রানু মিয়ার ছেলে বখাটে রাসেল মিয়া এর আগেও দু’জন নারীকে ধর্ষণ করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার বসে একটি সমাধান করা গেলেও আরেকটি ধর্ষণের ঘটনা থানা পর্যায়ে চলে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে সে পুনরায় অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।