• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যাত্রী হয়রানি: ওসমানী বিমানবন্দরে ৫ জনের কারাদণ্ড

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৫
যাত্রী হয়রানি: ওসমানী বিমানবন্দরে ৫ জনের কারাদণ্ড

বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হয়রানি রোধে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহিরাগত লোডার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এই অভিযানে গত দুই সপ্তাহে পাঁচজনকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদুল হক শরীফ। নিয়মিত অভিযানের ফলে বিমানবন্দরে এখন আর কোনো লোডার দ্বারা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের লাগেজ টার্মিনাল ভবন থেকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য দুইটি প্রতিষ্ঠান মিট এন্ড গ্রিট সার্ভিস হিসেবে কাজ করছে। যেকোন যাত্রীর লাগেজ গাড়ী পর্যন্ত পৌঁছানো বা গাড়ীতে ওঠিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে তারা সার্ভিসটি নিয়ে থাকেন। যেসব যাত্রীর এই সার্ভিসের প্রয়োজন হয়না বরং নিজেই ট্রলিতে লাগেজ নিয়ে টার্মিনাল থেকে গাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাদের টার্গেট করে পিছু ধরে বিমানবন্দরের লোডার পরিচয়ধারী ৩-৪ জনের একটি টিম। গাড়ীতে লাগেজ ওঠানোর পরপরই এই তিন চারজন মিলে অন্যায্য অর্থ দাবি করে। দাবীকৃত নগদ টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। এসব কর্মকাণ্ড ঘটাতে ৪০-৫০ সদস্যের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগদ যাত্রীদের কাছ থেকে বিমানবন্দরের লোডার পরিচয় দিয়ে টাকা দাবিসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো। তাই আমরা বিমানবন্দরের ক্যানোপি ও কার পার্কিং এলাকায় নিয়মিত অভিযান শুরু করি। এতে গত দুই সপ্তাহে পাঁচজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানের পর থেকে আমরা লক্ষ্য করছি যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের নিজস্ব লাগেজ বা মালামাল নিয়ে গাড়িতে উঠতে পারছেন। নিয়মিত অভিযানের ফলে বিমানবন্দরে এখন আর কোনো লোডার দ্বারা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। বিমানবন্দরের যাত্রীদের হয়রানি রোধ ও সর্বোচ্চ যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে এমন অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান। ফলে এ ধরনের হয়রানি পুরোপুরি নির্মূল করার প্রত্যাশা করেন তিনি।

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গত ০৩ জুলাই এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে, বিমানবন্দর এলাকায় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি দ্বার ক্যানোপি ও গাড়ী পার্কিং এলাকায় বিমানবন্দরের লোডার-পোর্টার পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের মালামাল পরিবহনের নামে হয়রানির চেষ্টা করা, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক ব্যাগ ও লাগেজ গাড়ীতে উঠিয়ে দেয়া, বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায্য অর্থ দাবী করা, ভিক্ষাবৃত্তি-আর্থিক সাহায্যের নামে যাত্রীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে অর্থ আদায় ও হয়রানি করা, বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট এলাকা ব্যাতীত নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ী পার্কিং, আগমনী ও বহির্গমন যাত্রীদের গাড়ীতে উঠানামার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের (০৩ মিনিট) অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ক্যানোপি এলাকায় গাড়ী রাখা, নির্ধারিত গতিসীমার ঊর্ধ্বে মোটরবাইক-গাড়ী চালানো এবং একমুখী চলাচল ব্যাহত করে উল্টোপথে গাড়ী চালানো, গাড়ী চালক পরিচয়ে যাত্রীদের হয়রানী ও প্রতারণা করা, বিমানবন্দর এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে অবৈধ দোকানপাট বসানোসহ হকার ঘোরাঘুরি না করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন