
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ঋণের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে পাওনাদারকে উল্টো প্রাণনাশের হুমকী দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) মৌলভীবাজার সদর থানার বীরগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ২ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন পাওনাদার -মৌলভীবাজার সদর থানার পদুনাপুর গ্রামের মোঃ খছরু মিয়ার পুত্র মোঃ আলতা মিয়া।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর থানার বীরগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামের মজমিল মিয়ার পুত্র মোঃ মতিন মিয়া (৬২) তার ছেলে সাহেদ ইসলাম (৩১) কে লন্ডন পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সালে একই থানার পদুনাপুর গ্রামের মোঃ খছরু মিয়ার পুত্র মোঃ আলতা মিয়ার কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে ৩ লক্ষ করে দুই বারে ৬ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু ২ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা টাকা ফেরত প্রদান করেননি। উল্টো ৬ লক্ষ টাকা সুদে-আসলে ১৪ লক্ষ টাকা হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার সময় মধ্যপাড়া গ্রামের মজমিল মিয়ার পুত্র মোঃ মতিন মিয়ার বাড়িতে মামলার বাদী আলতা মিয়া ঋণের পাওনা টাকা ফেরত নিতে মামলায় বর্ণিত সাক্ষীদের নিয়ে যান। তখন মতিন মিয়া যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তার ছেলে সাহেদ ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেন কথা বলার এক পর্যায়ে সাহেদ ইসলাম মামলার বাদীকে বলে যে “কিসের টাকা? আমাদের নিকট কোন টাকা পাওনা নাই।” এমনকি হুমকিও প্রদান করে। এসময় তার হাতে থাকা মোবাইল কেড়ে নিয়ে মতিন মিয়া বলেন “আর কোন দিন টাকার জন্য আমাদের বাড়ীতে আসবেনা। অন্যথায় প্রাণে মেরে ফেলা হবে। তুমি আমাদের কাছে কোন টাকা পাওনা।” এমন পরিস্থিতিতে বাদী কোন রকমে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর তিনি আত্মীয় স্বজন ও এলাকার মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করলে তারা আইনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। এর প্রেক্ষিতে বাদী গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি অভিযোগ মামলা দায়ের করেন। জি.আর মামলা নং-২৮৬/২৫, তারিখ: ২৮/৮/২৫ইং। মামলার আসামীগণ হলেন- মৌলভীবাজার সদর থানার বীরগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামের মোঃ মতিন মিয়ার পুত্র সাহেদ ইসলাম (৩১) ও তার পিতা মজমিল মিয়ার পুত্র মোঃ মতিন মিয়া (৬২)।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলাটি এফআইআর হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।