
ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগ নেতার বাসা দখলের অভিযোগ উঠছে। এজন্য বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হচ্ছে। আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাতক উপজেলার চেচান গ্রামের বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগের ছাতক উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হবিবুর রহমানের ৯৪ নং বাড়ীটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এর আগে সম্প্রতি সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মী কর্তৃক বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগ ছাতক উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হবিবুর রহমানের জায়গা জোর পূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ছাতক উপজেলা আওয়ামী ওলামালীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হবিবুর রহমান উনার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গমন করলে বাড়ি ফাঁকা থাকায় বিএনপি এবং তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা দখলের ঘটনাটি ঘটায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ী ও দোকান-পাটে হামলা-মামলা, ভাংচুর-লুটপাট ও দখল অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার ছাতক উপজেলা বিএনপির উপজেলা আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান তালুকদার তালুকদার ও সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনওয়ার হোসেন রাজু একদল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ছাতকের চেচান গ্রামস্থ মোহাম্মাদ হবিবুর রহমানের ৯৪ নং বাড়ীটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। তারা বাড়িতে ঢুকে এবং ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা কেয়ারটেকারকে জোরপূর্বক পিটিয়ে বের করে দিয়ে তারা বাড়িটি দখলে নেয়।
বাড়ীর কেয়ারটেকার জানান, কিছুদিন আগে হবিবুর রহমানের সিলেট নগরীর পশ্চিম কাজলশাহ এলাকায় বি এস দাগ নং -১০৩৮,বি এস খতিয়ান নং -৪৬০৭, বি এস জে এল নং -৭৫, মৌজা- মিউনিসিপ্যালিটি স্তিত ০৪.২৯ শতক জায়গা বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান তালুকদার ও যুবদল নেতা আনওয়ার হোসেন রাজু জোরপূর্বক দখল করে নেয়। সেখানে তারা মুহাম্মাদ হবিবুর রহমানের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড উঠিয়ে ফেলে দিয়ে তাদের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখে। এমনকি দখলকারীরা ফোনের মাধ্যমে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলে যে, যদি কখনো হাবিবুর রহমান ও স্ত্রী দেশে আসেন এবং বসত বাড়ি ও সিলেটের জায়গা ফেরত চান, তাহলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলেও দখলকারীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি উক্ত বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।