
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন খিলগ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাহতাব উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, মারধর করেছে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী মারফতে জানা যায় যে, মোঃ মাহতাব উদ্দিনের ছেলে তানভীর আনজুম বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র ছিল এবং সে অধ্যয়নকালীন সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। সে শুরু থেকেই ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদে বিশ্বাসী ছিলো।
আজ (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াই ঘটিকার দিকে কওমী মাদরাসার ছাত্ররা একত্রিত হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তানভীর আনজুমের পিতা মোঃ মাহতাব উদ্দিনকে মারধর করেছে মর্মে অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান যে, উক্ত হামলার নেতৃত্ব প্রদান করেন মাওলানা মোহাম্মদ শফিক যিনি হেফাজতে ইসলামের নেতা। মোঃ মাহতাব উদ্দিনের মামলা থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহন করেনি বলে জানা যায়। মারধরের পর মোঃ মাহতাব উদ্দিন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হেফাজত নেতা মাওলানা মোহাম্মদ শফিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, উক্ত তানভীর আনজুম দেশে থাকালীন সময়ে সে বিভিন্ন ভাবে কাওমি মাদরাসাকে ব্যাঙ্গাত্মক লেখালেখি করেছিল।
সে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে বিশ্বাসী ছিল। গতকাল সে ফেসবুকে আবারও কাওমি মাদরাসাকে নিয়ে উস্কানিমূলক লেখালেখি করেছে। এতে মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতের জন্য সুদরে যায়। জনৈক নাম প্রকাশে অনিচ্ছু ব্যক্তি জানান যে, উক্ত হেফাজত নেতারা ধর্মের দোহাই দিয়ে ছাত্রদের উস্কে দিয়ে মোঃ মাহতাব উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমাদের জানামতে তাদের পরিবার ও তার ছেলে একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান সুতরাং তাদের পক্ষে এধরনের কর্মকান্ডের অভিযোগ ও ভিত্তীহীন। তিনি এ হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন আজ দেশে আইনের শাসন নাই বলে এ ধরণনের হামলা সংগঠিত হচ্ছে। উক্ত হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ মাহতাব উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ দেখায়।