• ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

এ কেমন বর্বরতা, অবিচার এবং হামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
এ কেমন বর্বরতা, অবিচার এবং হামলা

দিরাই প্রতিনিধি : বুকে একেছি বাংলাদেশের মানচিত্র। এ মানচিত্রে হামলা করতে হলে, আমাকে আগে হত্যা কর। তাঁরপর আমার দেশে মানচিত্রে হাত দিও – কবিতার এ লাইনগুলি লিখে ছিলেন দেশান্তরী মুক্তচিন্তক রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়। ছাত্র জীবনে তিনি আরো লিখেছিলেন, তোমরা মানবতাকে ভালোবাসতে পারোনা, মুক্তচিন্তাকে ভালোবাসতে পারোনা, ধর্মের স্বাধীনতায় ভয় পাও- তবে কিভাবে মানুষের পরিচয় দাও। এ মুক্তচিন্তক দেশ ছেড়েছিলেন ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে। তিনি এখন যুক্তরাজ্য থাকেন, দেশ ছাড়ার পরে আর দেশে ফিরেননি। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে তার মুক্তচিন্তার চর্চা করেন। মানুষের চিন্তার স্বাধীনতার, ধর্মের স্বাধীনতার কথা ভাবেন। তিনি বলেছিলেন ধর্ম ইসলাম পন্থী রাজনীতিকের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। এখন ধর্মের নাম রাজনীতি হয় বাংলাদেশে। জামাতে ইসলামী-শিবির ধর্মের নামে ভোট চায়। এ বাংলাদেশ আমরা চাইনি।
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয় সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্র ছিলেন বোর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। সংস্কৃতি চর্চা করতেন। মানুষকে ভালোবাসতে পারাকে ধর্ম মনে করতেন। মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। দেশ ছেড়েছিলেন অজানা এক আতঙ্ক নিয়ে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে সরকারের পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির এক যুগের সূচনা হয়। থেমে যায় মানবতার গান, মুক্তচিন্তা চর্চা।
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়ের পরিবার ফোনে হুমকি পাওয়া শুরু করেন ৫ নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার মুক্তচিন্তার জন্য। হুমকিদাতারা বলেছে রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়কে পেলে হত্যা করা হবে। তার চাচা রাহিবুর রহমান চৌধুরী ভয়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন তাদের নিরাপত্তার জন্য। এখানে থেমে যায়নি হুমকিদাতারা। ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তাওহিদী জনতার নামে জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে আক্রমণ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুরসহ লুটপাট করে।
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়ের মা মোসাম্মৎ নাজমা বেগম চৌধুরী বলেন, আমার ছেলের জীবন হুমকির মুখে। মানবতা বিরোধিরা আমার ছেলেকে বাঁচতে দিবে না। তার চাচা রাহিবুর রহমান চৌধুরী বলেন- আমার ভাতিজা মুক্তমনা, সংস্কৃতি চর্চা করে, মানবতার কথা বলে। এই জন্য ধর্মান্ধরা তাকে হত্যা করতে চায়। এ ঘটনার পর পরিবারের সবাই ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
বাংলাদেশে সংস্কৃতি চর্চা, মানবতার গান, মানবতার কবিতা এখন হুমকির মুখে। এক অজানা অন্ধকারে বাংলাদেশ চলে যাচ্ছে। আমরা চাই এক আলোকিত বাংলাদেশ- যেখানে মানুষের পরিচয় হবে সে শুধু মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন