
স্টাফ রিপোর্ট
বাংলাদেশের সিলেট জেলার একটি এলাকায় একজন হিন্দু সংখ্যালঘু নারী ও ইসকন সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বৃষ্টি রানি ঘোষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্মীয় সহিংসতা এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বৃষ্টি রানি ঘোষের অনলাইন লেখালেখি ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার লেখাগুলোতে তিনি কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করেন এবং ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এর জেরে তাকে “ধর্মদ্রোহী” ও “ইসলামবিরোধী” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিশেষ করে দুই সপ্তাহ আগে শুক্রবার নামাজের পর স্থানীয় কয়েকটি মসজিদে জড়ো হয়ে কিছু উগ্রপন্থী ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সমাবেশে বলা হয় যে বর্তমান বাংলাদেশে বৃষ্টি রানি ঘোষের মতো “ইসকনপন্থী ও ধর্মদ্রোহী” ব্যক্তিদের কোনো জায়গা নেই। সেখানে আরও বলা হয়, তার নাম মনে রাখা হবে এবং তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে টার্গেট করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইসকন মন্দিরে হামলা, হিন্দু বাড়িঘর ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় তারা এমনিতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর মধ্যে একজন নারীকে প্রকাশ্যে এভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
বৃষ্টি রানি ঘোষ একজন শিক্ষিত নারী এবং তিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবন গড়তে চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান ঘনিষ্ঠজনেরা। তাদের মতে, একজন হিন্দু নারী, ইসকন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় সমালোচক হওয়ায় তার জীবন এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।