
স্টাফ রিপোর্ট ::
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ সিলেট সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও এসএমপি'র কোতোয়ালী থানার শেখঘাট ২১৬/৩ নং বাসার বাসিন্দা মো. শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ আল-আমিন এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার শেখঘাটের ২১৬/৩ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আর আল আমিনের নামে দুইটি মামলায় আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় ওই দিন পুলিশ এসে তাকে খুজে যায়। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট মহানগর ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট সদরের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন দীর্ঘদিন থেকে দেশের বাইরে রয়েছেন। তার পরিবারের লোকজনও আত্মগোপনে ছিলেন। গত কিছুদিন পূর্বে তার পরিবারের লোকজন দেশে এসে তাদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর বিএনপি'র সহ-সভাপতি ও ১২ নং বিএনপি'র সভাপতি হাজি জাহাঙ্গীর রাজা, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মোর্শেদ ও সিলেট মহানগর বিএনপি'র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকির নেতৃত্বে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিলে ধর ধর লীগ ধর ধরিয়া ধরিয়া জবাই কর, ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও, পুড়িয়ে দাও। আওয়ামী লীগের চামচারা হুশিয়ার সাবধান স্লোগান দিয়ে আল-আমিনের বাসার দিকে ২৫/৩০ টি মোটরসাইকেল দিয়ে ৭০/৮০ জন নেতাকর্মী গিয়ে বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘরে থাকা পরিবারের লোকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আল আমিনকে বের করে দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু আল আমিন ঘরে নেই বললে হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর করে লুটপাট করে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা লোকজন তাদের প্রাণ রক্ষার্থে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে আল আমিনের পরিবার সূত্র জানায়, মোহাম্মদ আল-আমিন ছাত্রলীগ করতেন। সে কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২০২৪ সনের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সবাই প্রাণ রক্ষার্থে আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু সরকারের মদদপুষ্ট জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মিলে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে এবং সন্ত্রাসীরা বলেছে আল আমিন-কে এনে না দিলে আমাদেরকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে।
ছাত্রলীগ নেতা আল আমিনের মামা আতিকুর রহমান জানান, স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কতিপয় সন্ত্রাসী বাড়িতে এসে তার ভাগ্না মোহাম্মদ আল আমিনকে খোঁজাখুজি করে হুমকী প্রদান করে যে, তারা তাকে পাইলে খুন করবে। মোহাম্মদ আল আমিন এর কারণে নাকি তারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক নির্যাতিত হয়েছে ইত্যাদি, ইত্যাদি। ঐদিন পুলিশও মোহাম্মদ আল আমিনের খোঁজে তাদের বাড়িতে আসে। তারা জানায় যে, আল আমিনের নামে ২টি গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু আছে, তাই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য এসেছে। মোহাম্মদ আল আমিন যুক্তরাজ্যে থাকায় তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়।
তিনি আরও জানান,
বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের দলীয় ক্যাডাররা তাদের বাড়ীতে এসে প্রতিনিয়ত ভয় দেখাচ্ছে। আর এরাই এলাকায় সর্বত্র ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাঈনুল জাকির জানান, ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আল আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। আর বাড়িতে হামলার ব্যপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা