জামালগঞ্জের কলেজ ছাত্রী তাহমিনা বেগম মুন্নী অপহরণ মামলার রায় ঘোষিত, একমাত্র আসামী সাইদুল হাসানকে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড

Daily Jugabheri
প্রকাশিত April 21, 2026
জামালগঞ্জের কলেজ ছাত্রী তাহমিনা বেগম মুন্নী অপহরণ মামলার রায় ঘোষিত, একমাত্র আসামী সাইদুল হাসানকে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড

কোর্ট রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ ॥ সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত কলেজ ছাত্রী তাহমিনা বেগম মুন্নী অপহরণ মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এক জনাকীর্ণ আদালতে একমাত্র আসামী সাইদুল হাসানকে আদালতে প্রদত্ত স্বাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে দোষী সাব্যস্থ করে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ০৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। আসামী পলাতক থাকায় আদালত থেকে আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি কার্যকর করতে পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জকে নির্দেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পি.পি. এডভোকেট মোঃ শামসুর রহমান এবং পলাতক আসামীর পক্ষে সরকারীভাবে নিযুক্ত স্টেইট ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ভিকটিম তাহমিনা বেগম মুন্নী সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের একজন মেধাবী ছাত্রী। সে জামালগঞ্জ থানাধীন দামোধরপুর গ্রামের মৃত শফিকুল হক ও মোছাঃ নূরজাহান-এর মেয়ে। প্রতিদিনের ন্যায় তাহমিনা বেগম মুন্নী ২১/০৫/২০২৩ ইংরেজী সকালে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তার ফোনটি বন্ধ পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। এক পর্যায়ে ঐদিন রাত অনুমান ৯ ঘটিকায় জনৈক বখাটে ছেলে সাইদুল হাসানের ফোন থেকে ভিকটিম তাহমিনা বেগম মুন্নীর মায়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে ভিকটিম তাহমিনা বেগম মুন্নী জানায়, সাইদুল হাসান তাকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে অপহরণ করেছে এবং তার নিকট থেকে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আটকে রেখেছে। এক পর্যায়ে ভিকটিম তাহমিনা বেগম মুন্নীর নিকট থেকে সাইদুল হাসান ফোন কেড়ে নিয়ে জানায়, “তোমার মেয়েকে আমি উঠাইয়া নিয়া আসিয়াছি এবং বিবাহ করিব। তোমরা কেহ বাধা দিলে বা পুলিশ, র‌্যাবকে খবর দিলে তোমার মেয়েকে প্রাণে হত্যা করিব” বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়। তাহমিনা বেগম মুন্নী কলেজে যাওয়ার-আসার পথে বখাটে যুবক সাইদুল হাসান তাকে ইভটিজিং করতো। এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা ঐদিন রাতে জামালগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং- ৭৫০, তারিখ- ২১/০৫/২০২৩ ইংরেজী) দায়ের করেছেন। অনেক চেষ্টা করেও ভিকটিমকে উদ্ধার করতে না পেরে গত ১০/০১/২০২৫ ইংরেজী তারিখে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে জামালগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা নং- ১৮, যাহার জি.আর মামলা নং- ২৩/২০২৫ ইংরেজী, ধারা- ৩৬৪/৫০৬/৩৪ দঃ বিঃ সংক্রান্তে দায়ের করলে পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র (নং- ১২৮, তারিখ- ১২/০৩/২০২৫ ইংরেজী) দাখিল করলে মামলাটি বিচারের নিমিত্তে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং- ১৭৮/২০২৫ ইং) মূলে রেকর্ডভূক্ত করে বিচার নিষ্পত্তি করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন