
যুগভেরী ডেস্ক ::: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা মিনহাজুর রহমান রাহীর বাসভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রাহাদ ও সহ সভাপতি – তানভীর আহমদ এর নেতৃত্বে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।
গত ৩ মে সন্ধ্যায় নগরীর নয়াসড়ক এলাকার ১৬ নং আল হেলাল’ বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের এক বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এনসিপিতে যোগ দিতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীও এনসিপিতে যোগদান করেন।
অভিযোগ উঠেছে, এনসিপিতে যোগদানের মাত্র ৩ দিন পরই দলটির নাম ভাঙিয়ে এনসিপি ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রদল নেতা রাহীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে ৩ মে সন্ধ্যায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নয়াসড়কস্থ রাহীর বাসভবনে হামলা চালায়। রাহী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার ঘরবাড়ি তছনছ করে। এসময় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আসবাবপত্রসহ ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে প্রাণভয়ে আশপাশের মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাহীর বাবা সেনাজুর রহমান। তিনি বলেন, আমার ছেলে মিনহাজুর রহমান রাহী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। কিন্তু স্থানীয় ছাত্রলীগ ও এনসিপি নামধারী সন্ত্রাসীরা প্রায়ই আমার বাড়িতে এসে তাকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে তারা আমার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।
তিনি আরও জানান যে, এই হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। ফলে বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত তার পরিবারকে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং একজন প্রবাসীর বাসভবনে হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।