• ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

‘আমার মুখে হাসি, বুকে কান্না’ ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে জামায়াত আমীর

Daily Jugabheri
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬
‘আমার মুখে হাসি, বুকে কান্না’ ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে জামায়াত আমীর

সিলেটে খুন হওয়া চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে স্বান্তনা জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এসময় ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচারও দাবি করেন তিনি।

শিশু ফাহিমা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা লম্পট ছেলের হাতে ফাহিমার জীবন ও ইজ্জ্বত ছিন্নভিন্ন হয়েছে। একটা গোলাপ ফুলের মতো বাচ্চাকে তার মা-বাবার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই লম্পটের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এরকম লম্পটদের শাস্তি না হলে লম্পটদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জ্বিত।

তিনি বলেন, আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জ্বত রক্ষা করতে পারছি না। অথচ আমরা বড় বড় কথা বলি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছি।

ডা. শফিক বলেন, জাকির একা এতো বড় অপরাধ একা করেনি। তার অপনজনরাও এর সাথে জড়িত। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ লম্পটের সহযোগী হওয়ার সাহস করা হবে না।

ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার কাজে র্দীসূত্রিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৮ দিন হয়ে গেলে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার চার্জশিট প্রদান করা হলো না। বিচার দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যদি যায়, তাহলে আমরা ধরে নেবো এ বিচার হবে না। এখানকার পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে তাহলে তাদের এখানে থাকার দরকার নেই। ঢাকার রামিসা হত্যার বিচার একমাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি চাই বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এখানকার সংসদ সদস্যও এরকম ঘোষণা দেবেন। দ্রুত ফাহিমা হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবেন।

শিশু ফাহিমার বাবাকে পাশে নিয়ে একপর্যায়ে কান্নজড়িত কণ্ঠে ডা. শফিক বলেন, আমার মুখে আমার হাসি, বুকে আমার কান্না। ফাহিমার ছবি দেখলে চোখে পানি ধরে রাখা সম্ভব হয় না।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

সংবাদটি শেয়ার করুন