
স্টাফ রিপোর্টার : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ারকে অপসারণ এবং সরকারি উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত একটি পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রবাসী সাংবাদিক খালেদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাঁর সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-৯ এর দল বাসায় অভিযান চালায়। এর আগে বুধবার রাতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দলও তল্লাশী চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর আম্বরখানার বাদামবাগিছা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মালিকের পুত্র সাংবাদিক খালেদুর রহমান বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিয়মিত সমালোচনামুলক লেখালেখি করে আসছেন। গত ২২ জুন তিনি সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বদলী নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে দুর্নীতি ঘুষ লেনদেন হয়েছে ইঙ্গিত করে একটি সমালোচনামুলক পোষ্ট করেন। এর জের ধরে গত ২৩ জুন মঙ্গলবার সিলেট জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রচার, মানহানি এবং সাইবার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন জেলা যুবদল নেতা এখলাছ মুন্না। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক খালেদুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে, জেলা প্রশাসক সারওয়ারকে অপসারণ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থ সরকারি উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিনি দেশের প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। বাদীপক্ষের দাবি, এসব বক্তব্য ভিত্তিহীন, মানহানিকর এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উসকানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে মামলার পর গত বুধবার (২৪ জুন) রাত ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল বাদামবাগিছা বাসায় তল্লাশী চালায়। বাসায় তখন ভাড়াটিয়া, তার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চারা ছিল। এসময় সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৯ এর একটি দল ঐ বাসায় তল্লাশী চালায়। তবে বাসায় ভাড়াটিয়া ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক বিদেশে অবস্থান করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা