
স্টাফ রিপোর্টার : জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় এক বিধবা নারীর বাসায় হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানাধিন কুমারপড়ার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী জিহারা আক্তার জবার অভিযোগ সম্পত্তির জন্য তার আপন দুই ভাই- আওয়ামী লীগ নেতা সাহেল আহমেদ চৌধুরী ও সাদ আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জিহারা আক্তার জবার দাবি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে ভাইদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভাইয়েরা জোরপূবর্ক পৈতৃক সম্পত্তি নেওয়ার জন্য তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি করে আসছেন। তিনি বাধ্য হয়ে তার বড় মেয়েকে প্রবাসে পাঠান। গতকালের হামলায় তার বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ বারহাল এলাকার মতছিন আলীর মেয়ে জিহারা আক্তার জবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাদেশ^র দখারপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের সাথে বিয়ে হয়। ২০১৩ সালের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে জকিগঞ্জের বারহালে বিশাল সম্পত্তির মালিক হন জিহারা আক্তার জবা। কিন্তু এই সম্পত্তির উপর তার অপন দুই ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সাহেল আহমেদ চৌধুরী ও সাদ আহমেদ চৌধুরী নজর পড়ে যায়। এজন্য তারা কয়েক বছর ধরে জিহারা আক্তার জবা এবং তার দুই মেয়ে মেহের তারান্নুম মাহি ও জাহরা শবনম জুহির উপর মানসিক অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে জীবনের নিরাপত্তার জন্য বাধ্য হয়ে তিনি বড় মেয়ে মেহের তারান্নুম মাহিকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। এতে তার ভাইয়েরা আরো ক্ষীপ্ত হয়ে যায়। কারণ তার পৈতৃক সম্পত্তির মালিক তার দুই মেয়ে। দীর্ঘদিন থেকে তারা জমির দলিলে স্বাক্ষর নেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু জিহারা আক্তার জবা এবং তার ছোট মেয়ে জাহরা শবনম জুহি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করেন। এর জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাহেল আহমেদ চৌধুরী ও সাদ আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কতিপয় সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাসায় হামলা চালায়। এসময় বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। তখন পুলিশের সাহায্য চেয়ে আবেদন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ উঠছে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী জিহারা আক্তার জবা বলেন, আমার দুই ভাই সাহেল আহমেদ চৌধুরী ও সাদ আহমেদ চৌধুরী আগে আওয়ামী লীগ করতেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় বিএনপির সাথে মিলে মিশে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জোরপূর্ব আমার পৈতৃক সম্পত্তি নিতে চান। আমি ও আমার মেয়েকে সাদা দলিলে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। কিন্তু আমরা স্বাক্ষর না করায় বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি কোতোয়ালী থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশে আসেনি। ঘটনা শুনে উল্টো পুলিশ বলেছে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা নিজেরা আপোসে সমাধান করে ফেলেন। এতে আমি ও আমার মেয়ে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত রয়েছি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও অভিযুক্ত সাহেল আহমেদ চৌধুরী ও সাদ আহমেদ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি। এই ধরনের কোন ঘটনা তার জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি খান মো: মাঈনুল জাকির।