
নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ, মিথ্যা অপপ্রচার চালানো এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সিলেটে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩০ জুন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে মামলাটি (এয়ারপোর্ট সি.আর মামলা নং ১৪৮/২০২৬) দায়ের করেছেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার খলাদাপনিয়া গ্রামের আব্দুস শুকুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম রিপন (৩২)। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানাধীন ধোপাগুল, সাহেবের বাজার এলাকায় বসবাস করেন।
মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার রাজনগর চৌমুহনীর আবুল বারিকের ছেলে মো. সজিব মিয়া (২৯), সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার কর্মখলা, কামালবাজারের ইনতাজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (৫৫) ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ইনাম (ছৈলা) গ্রামের মহেশ সরকারের ছেলে অনুরঞ্জন সরকার (৩৪)। তাদের মধ্যে সজিব মিয়া বর্তমানে সিলেটের জালালাবাদ থানার পাঠানটুলা শ্রাবণী এলাকায় ও অনুরঞ্জন সরকার লামাবাজারস্থ কর্ণার প্লাজায় বসবাস করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৮ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বাদী জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিবাদীদের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত ২১ জুন বিবাদী মো. সজিব মিয়া তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ছবি ব্যবহার করে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করেন। এসব পোস্টে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয় এবং তাকে লক্ষ্য করে হুমকিসূচক ভাষা ব্যবহার করা হয়।
এদিকে, ২২ জুন দ্বিতীয় বিবাদী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ছবি সংযুক্ত করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করা হয়। এছাড়া বাদীর পারিবারিক বিষয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাদী জাহাঙ্গীর আলম এসব পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করলে বিবাদী সিরাজুল ইসলাম মেসেঞ্জারে বাদীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও মানহানিকর প্রচারণা চালানোর হুমকি দেন।
অপরদিকে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ জুন বিবাদী অনুরঞ্জন সরকারও তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে বাদী জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় এবং তাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ফেসবুকে প্রকাশিত এসব পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে চরমভাবে হেয়প্রতিপন্ন হন। এমনকি তাঁর বোনের সম্ভাব্য বিয়ের আলোচনা ভেঙে যায়, যা পরিবারের জন্য বড় ধরনের সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে বাদীর বর্তমান বাসার সামনে পৌছে হুমকি দেয় ‘আদালতের আশ্রয় নিলে তাকে খুন ও গুরুতর জখম করা হবে’। এতে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা