
দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর জেল খাটার পর কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় খালাস পাওয়া ৪ জন।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান তারা। এসময় কারাফটকে অপেক্ষমাণ স্বজন ও বন্ধুরা তাদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মামলায় খালাসের আদেশ কারাগারে আসায় ও অন্য কোন মামলা না থাকায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়।
এর আগে দুপুরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে তাদের খালাস প্রদান করেন আদালত।
এই রায়ে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া সকলেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের নেতা।
তবে মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।
এরআগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আসামিরা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভিকটিমও আমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনেনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে প্রাইভেটকারে করে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে প্রবেশ করেন স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ এসে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়।
এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা পয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই এমসি কলেজ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা