
স্টাফ রিপোর্ট::
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগি সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট সদর শাখার সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মিরবক্সটুলা আজাদী ১৯ নং বাসার ইকবাল হোসেনের মেয়ে সামিয়া আক্তারকে খুঁজছে পুলিশ । অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের লোকজন গিয়ে সামিয়া আক্তার ও তার ভাইকে বাসায় না পেয়ে তাদের বাসায় হামলা করে বাসা ভাংচুর, লুটপাট করার অভিযোগ করেছেন পরিবারের লোকজন।
পরিবারের লোকজন আরো অভিযোগ করে বলেন, সামিয়া ও তার ভাই মো. কাওসার আহমেদ পাপ্পুকে খুঁজে না পেয়ে তাদের বৃ্দ্ধ পিতাকে একা পেয়ে মব সৃষ্টি করে অকথ্য বাসায় গালিগালাজ করেন। এসময় তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে শারিরীক নির্যাতন করা হয়েছে। ফলে তাকে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সামিয়া আক্তার বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে থাকাকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট সদর উপজেলা শাখার সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করেন। দলে থাকা অবস্থায় তিনি দলের পক্ষে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে দলের পক্ষে সদস্য সংগ্রহ, সমাবেশ আয়োজন, প্রচারনায় অংশগ্রহণ ও দলের পক্ষে জনমত তৈরী করেন। এছাড়া কলেজে অধ্যায়নকালে সানি আহমেদ নামের ছাত্রদলের এক নেতার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সানী আহমেদ ছিলো খুবই উগ্র এবং বিভিন্ন সন্ত্রাশী কাজের সাথে যুক্ত। এছাড়া বিভিন্ন মাদক ব্যাবসার সাথেও সে যুক্ত ছিলো। উক্ত সানী ছিলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন স্বশস্ত্র ক্যাডার। সবকিছু জেনে ও বুঝতে পেরে সামিয়া সানীকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে সানী অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে দীর্ঘদিন থেকে সামিয়া'র ক্ষতি করার পায়তারায় লিপ্ত ছিই। এছাড়া
প্রতিনিয়ত সামিয়ার বাসায় লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে মহানগর বিএনপি'র সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহিন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম টিপু ও সানি আহমদের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জোন নেতাকর্মী জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো, এবং আওয়ামী লীগের আস্তান জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও, স্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে ছাত্রলীগ নেত্রী সামিয়ার বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় সামিয়ার বৃ্দ্ধ বাবা বাধা দিলে তাকে মারপিট করে সামিয়া ও তার ভাই কোথায় জানতে চায়। তিনি হামলাকারীদের বলেন তারা কেউ দীর্ঘদিন থেকে বাসায় নেই। আর সামিয়া দেশের বাইরে রয়েছে। তখন খোঁজাখুজি করে হুমকী প্রদান করে বলে সামিয়া ও তার ভাইকে পাইলে খুন করবে। তখন সামিয়ার বাবা ইকবাল হোসাইনের উপর হামলা করে। তাদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি কোন রকমে নিজেকে রক্ষা করেন। ঐদিন রাতে পুলিশ গিয়ে সামিয়াকে খোঁজে আসে।
কোতোয়ালী থানার পুলিশ সুত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেত্রী সামিয়া'র নামে আদালতের একাধিক গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে ।
সামিয়ার পরিবার সুত্র, স্থানীয়রা এবং তার ভাই মো. কাওসার আহমেদ পাপ্পু জানান,
সামিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। আর সামিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যান্যদের রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া তাকে খুন করার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাড়িতে এসে প্রাণে হত্যার হুমকী প্রদান, পিতার উপর বিএনপি, ছাত্রদল কর্তৃক মব সৃষ্টি করে হামলা করা হয়েছে।এছাড়া সামিয়ার ভাই ২বৎসর যাবৎ আত্মগোপনে, বাসায় থাকতে পারে না। আর তাদের খুঁজে প্রায়ই পুলিশ বাড়ীতে আসে। সামিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু থাকায় এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হুমকীর কারণে তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
এসএমপি'র কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, ছাত্রলীগ নেত্রী সামিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে । তাই তাকে পুলিশ খুঁজছে। এছাড়া তার বাসায় হামলা বা তার পিতা আহত ঘটনার কোন তথ্য নেই। তবে হামলা ঘটনার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে বিষয়টি সাজানো, নাকি সত্য ঘটনা।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা