
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে সিলেটের জৈনপুরের শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজা অণুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার মহা অষ্টমীর সকালে এ পূজা সম্পন্ন হয়। এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটে কুমারী পূজা হলো।
কুমারী পূজা দেখতে ভোর থেকেই দক্ষিণ সুরমার জৈন্তপুরের মহা লক্ষী মন্দিরে ভিড় করেন ভক্তরা। দূর দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন এখানে। পূজা শুরু হওয়ার আগেই মন্দির প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে যায় ভক্তদের ভিড়।
সকাল ৮ টায় শুরু হয় কুমারী পূজা। ঢাক, ঢোল, কাসর, শঙ্খ, ঘন্টা বিভিন্ন বাদ্য বাজানার আড়ম্বরপূর্ণ ধ্বনি ও মন্ত্রপাঠের মধ্যে দিয়ে এ পূজা পর্বের শুরু হয়। পরে সকাল ১০ টায় কুমারী দেবী অধিষ্ঠান আচারের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়।
নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর প্রতীকী এই আয়োজনে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে কুমারী কন্যাকে পূজা করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি নারীর মধ্যে দেবী মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে। এই বিশ্বাস থেকেই কুমারী কন্যার মধ্যে দেবীর রূপ কল্পনা করে পূজা-অর্চনা করা হয়। কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে নারীশক্তির আরাধনার পাশাপাশি নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর তাৎপর্যও তুলে ধরা হয়।
মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠের পুরোহিত বলেন, মহাষ্টমীর পূজার্চনার অংশ হিসেবে কুমারীকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজায় নারীর মধ্যে নিহিত দেবীশক্তি ও মাতৃশক্তির বন্দনা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও মর্যাদার বার্তা তুলে ধরা হয়।
জৈনপুরে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করে। পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের মতে, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে কুমারী পূজার এ আয়োজন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের তাৎপর্যে নারীশক্তির মাতৃরূপের মহিমাকে আর বাস্তবধর্মী করে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
পূজায় আগত অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের স্ত্রী দিনারা মালিক সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে চরচাকে বলেন, পূজোয় আমার প্রথম আসা এটি। জীবনের প্রথম এসে খুবই ভালো লাগতেছে, আমি খুবই উত্তেজিত,আমার জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা।
অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের স্ত্রী সুমনা দাস বলেন, "আমি জানতাম যে এখানে সতী মায়ের গ্রীবা শক্তিপীঠ আছে। এখানে আমি প্রথম কুমারীপূজো দেখছি। এখানকার মানুষের যে ভাব-ভক্তি আনন্দ দেখে খুবই মুগ্ধ । মনে হচ্ছে আমি কলকাতাতেই বসে আছি এবং কলকাতাকে মিস করছি না।
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেন, আমি আগেও এসেছি শক্তিপীঠে। তবে আজকে এই কুমারী পূজা উপলক্ষে পূজোতে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করে খুবই ভালো লাগছে।
জৈনপুরের শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠ মন্দিরের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক জানান, এবারের পূজোতেও আমরা পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবার খুবই আন্তরিক সহযোগী পেয়েছি। আশা করছি পূজোর সবটুকু ভালো ভাবেই সম্পন্ন হবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা