• ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নগরীর ছড়ারপারে আওয়ামীলীগ কর্মীর বাসা দখল

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৪
নগরীর ছড়ারপারে আওয়ামীলীগ কর্মীর বাসা দখল

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের মোতাওয়াল্লি ভিলা নামের একটি বাসা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মুনিম ও তার সহযোগীরা। বাসার মালিক আওয়ামীলীগ কর্মী মোঃ আব্দুল গাফফার সাফি। সারা দেশজুড়ে যখন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলছে সেই সুযোগে বাড়িটি দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হামলাকারীরা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিমের নেতৃত্বে অন্তত ১০/১৫ জন সশন্ত্র সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর করে। এসময় সন্ত্রাসীরা শাফির মা শাহনাজ পারভীন খান কুইনকে বলে ‘তোর পুত্র মোঃ আব্দুল গাফফার সাফি আওয়ামীলীগের কর্মী। এদেশে তোদের জায়গা নেই। তোর ছেলেকে বলবি সাহস থাকলে আমার মোকাবেলা করতে। প্রাণে হত্যা করবো তাকে নয়তো মামলায় জড়িয়ে ফাসির রশিতে ঝুলাবো।’ এরপর সন্ত্রাসীরা শাহনাজ পারভীন খান কুইনকে মারধর করে। মাকে বাচাতে দুই বোন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। স্থানীয় লোকজন প্রত্যক্ষ ঘটনাটি দেখলেও কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেনি। সম্প্রতি আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বিএনপি নেতা কাউন্সিলর মুনিম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, শাহনাজ পারভীন খান কুইন বিধবা। স্বামীর রেখে যাওয়া প্রায় ১৯ শতক জমির উপর বাড়িটির মালিক তার পুত্র মোঃ আব্দুল গাফফার সাফি। মুনিমের ভয়ে পুত্রকে দেশের বাইরে পাঠিয়েছেন। দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি এ বাসায় থাকেন। অত্যন্ত সহজ সরল ও নীরিহ এই মানুষের বাসাটি মুনিম জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।
এ বিষয়ে শাহনাজ পারভীন খান কুইন অভিযোগ করেন, মুনিম মারধর করে দুই মেয়েসহ তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। মানসম্মান বাচাতে তিনি মেয়েদেরকে নিয়ে তার ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। তিনি জানান, মুৃনিম দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি দখলে নেয়ার পায়তারা করে আসছে। পুলিশ তাকে কোন ধরনের সহযোগিতা করছেনা বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলেও কোতোয়ালী থানা পুলিশ মুনিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এমনকি তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কোন লাভতো হয়নি। উল্টো মুনিম বাহিনীর অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। সম্প্রতি আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর মুনিমের অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। তাই গত ১৪ আগস্ট কতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসী মুনিমের হয়রানির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে থানার নতুন ওসি অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেন। পরদিন ১৫ আগস্ট মুনিম জোরপূর্বক বাসটি দখল করে নেন।
স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের লোকজনকে নিরাপত্তা দেয়ার কোন শক্তি তাদের নেই বলে জানান কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুনু মিয়া মিয়া। তাদেরকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ রয়েছে। যেখানেই পাওয়া যায়, তাদেরকে আটক করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর মুনিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একসুরে বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের এদেশে থাকার কোন অধিকার নেই। তাদের সম্পত্তি দেশের জনগণের। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাসাটি আওয়ামীলীগের হাত থেকে দখলমুক্ত করেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন