
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে চাচাতো ভাইকে লন্ডনে (যুক্তরাজ্য) পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চাচীর কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. সিরাজুল কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ জুন) গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছত্রিশ গ্রামের আব্দুল মন্নানের মেয়ে খুদেজা বানু বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ নং আমল গ্রহণকারী আদালতে মামলা (নম্বর- গোলাপগঞ্জ সি.আর ২৫৯/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে একই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন আহমদের ছেলে মো. সিরাজুল কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পর্কে খুদেজা বানু ও মো. সিরাজুল কবির চাচী-ভাসুরপো।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছত্রিশ গ্রামের বাসিন্দা খোদেজা বানু তার ছেলেকে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) পাঠানোর উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত মো. সিরাজুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিদেশে লোক পাঠানোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার কথা বলে অল্প সময়ের মধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর আশ্বাস দেন সিরাজুল কবির। সরলবিশ্বাসে ২০২২ সালের জুন ও জুলাই মাসে তিন দফায় মোট ৪৫ লাখ টাকা নগদে মো. সিরাজুল কবিরকে পরিশোধ করেন বাদী খুদেজা বানু। টাকা গ্রহণের সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভিসা ও বিদেশযাত্রার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কখনো কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন, কখনো বিদেশি কর্তৃপক্ষের জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে বারবার সময় চেয়ে নিতেন। মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করার পরও যখন বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি, তখন খুদেজা বানু তার টাকা ফেরত চান। মো. সিরাজুল কবির টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো টাকাই ফেরত দেননি। চলতি বছরের ১১ জুন পাওনা টাকা চাইতে গেলে মো. সিরাজুল কবির টাকা নেওয়ার বিষয়টিই অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার চাচী খুদেজা বানুকে অপমান করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী খুদেজা বানু।
ভুক্তভোগী খুদেজা বানু বলেন, আমার পরিবারের সারা জীবনের সঞ্চয় আমি সরল বিশ্বাসে আমার ভাসুরের ছেলে মো. সিরাজুল কবিরের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সিরাজুল কবিরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আদালত থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। কেবল তো মামলা হলো। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। থানায় আদালতের আদেশ আসলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।