কানাইঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের কানাইঘাটে সন্ত্রাসী হামলায় ১ যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। নিহতের নাম রিদওয়ানুল। তিনি কানাইঘাট উপজেলার উজান বড়পইত গ্রামের মো: জহির উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র। আহতরা হলেন রিদওয়ানুলের ভাই রেজাউল করিম চৌধুরী ও তার মাতা মোছা: ফাতেমা বেগম চৌধুরী। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে বড়পইত গ্রামে মো: জহির উদ্দিনের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি জয়নুলের নেতৃত্বে রিজু, টকিসহ ছাত্রলীগের অন্তত ১২/১৫ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এসময় মো; জহির উদ্দিন ও তার ছোট ছেলে এবং মেয়ে বাড়িতে ছিলেন না।
নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়, সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে তার পুত্র রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে চাদা দাবি করে। রেজাউল চাদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তখন সন্ত্রাসী টকি রেজাউলকে গুলি করতে চাইলে রিদওয়ানুল ভাইকে বাচাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু জয়নুল রিদওয়ানুলকে বাধা দেয় এবং মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন রিদওয়ানুল চিৎকার করলে সন্ত্রাসী টকি তার পেটে ও বুকে একের পর এক গুলি করতে থাকে। পুত্রদের এমন অবস্থা দেখে মা ফাতেমা বেগম চৌধুরী এগিয়ে আসেন। তিনি কান্নাকাটি করে পুত্রদের জীবন রক্ষার্থে সন্ত্রাসীদেরকে আলমারীর চাবি দিয়ে দেন। তখন সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারীতে রক্ষিত নগদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, গহনা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাবার সময় রেজাউল করিম চৌধুরীকে ধামকি দিয়ে যায় ‘১৫ দিনের মধ্যে আরও টাকা না দিলে পরিণতি ভালো হবে না।’
সন্ত্রাসীরা চলে গেলে প্রতিবেশিরা আহত মা ও ২ ছেলেকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তার রিদওয়ানুলকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তার জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ফাতেমা বেগম চৌধুরী ও ছেলে রেজাউল করিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিদওয়ানুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীদের চোখের সামনে এমন হত্যাকান্ড ঘটে গেলেও মুখ খুলতে চান না কেউ। কারণ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ছাত্রছায়ায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী জয়নুল ও তার বাহিনী চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম।
১ পুত্র ও স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি, আরেক ছেলের লাশ পড়ে আছে চোখের সামনে। এমন পরিস্থিতিতে শোকে মূহ্যমান অসহায় মো: জহির উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘এ হত্যাকান্ডের নেপথ্যে রয়েছেন তার ভাতিজা তৌহিদুর। রেজাউলের সাথে অংশীদারিত্বে ব্যবসা করে এখন প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক একাই দখলে নিতে চায় তৌহিদুর। তাই সে লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন ও মেম্বার মেসবাহুর রহমানের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী জয়নুল ও তার বাহিনী দিয়ে একের পর এক নির্যাতন করে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তারাই রিদওয়ানুলকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
ঘটনা জানার পরপরই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘উজান বড়পইত গ্রামের একটি বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার একটি টিম সেখানে গেছে। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। কেউ অভিযোগও নিয়ে আসেনি। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’