
স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার মাথিউরা গ্রামের ফয়ছল আহমদ (২৫) নামক এক যুবক ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলাধীন মাথিউরা গ্রামের মৃত রুহেল আহমদের পুত্র।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বৎসর পূর্বে পিতৃ-মাতৃহীন ফয়ছল আহমদ বিয়ে করেন একই উপজেলার কাকরদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের কন্যা ছামিরা আক্তারকে। চাকুরীর সুবাদে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে একটি ফার্মেসীতে চাকুরী করতেন বিয়ানীবাজারের যুবক ফয়ছল আহমদ। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে ছোট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করতেন। গত ২২ জুলাই প্রতিদিনকার মতো ফয়ছল আহমদ দুপুরের খাবার খেতে বাসায় ফিরছিলেন। ঢাকায় তখন ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। চারদিকে গুলি আর গুলি। ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। ঐ সময় ফয়ছল আহমদ সহ অনেক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকায় সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী জানতে পারেননি এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়। দু’দিন পর ফয়সল আহমদের সহকর্মীদের নিকট থেকে ফয়ছল আহমদের মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন ছামিরা আক্তার। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ছামিরা আক্তার তার স্বামীর লাশের খোঁজ পাননি। ছামিরা আক্তারের বিবাহের সময় ব্যবহৃত হাতের মেহেদীর রঙ এখনও মিটেনি, এমন অবস্থায় স্বামীকে হারিয়ে হিতাহিত জ্ঞাত হারিয়ে ফেলেন ছামিরা আক্তার ও তার পরিবারের লোকজন। দেশের এই থমথমে পরিস্থিতির মাঝে কোথায় গিয়ে লাশ খুঁজবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
পত্রিকা প্রকাশঃ ২৯ জুলাই ২০২৪ (যুগভেরী)