গোলাপগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ , সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া : চারদিকে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব

Daily Jugabheri
প্রকাশিত May 24, 2026
গোলাপগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ , সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া : চারদিকে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ থেকে:

সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ কিংবা নৈতিকতা নেই। তারা সব সময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এখানে দল কিংবা আদর্র কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। পূর্ করতেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে হয়ে গেছেন বিএনপি, জামাত তথা এনসিপির নেতা। রাজনৈতিক লেজুড়ভিত্তিকে পুঁজি করে চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসী সারাদেশের ন্যায় গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজার ও এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধমূলক কর্কান্ড। প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় তারা সন্ত্রাসী কার্ক্রম চালিয়ে গেলেও কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার তথা, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, ভাদেশ্বর, রণকেলি, পুরকায়স্থ বাজার, চৌধুরীবাজার, ‍কুড়ির বাজারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি বাসাবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে নিরীহ জনসাধারণকে। সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে নিরীহ লোকজনের উপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টীমরোলার। সাম্প্রতিক সময়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, থানা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যবসায়ীদের উপর হামলা, চাঁদাবাজি ও দোকানসহ বাসাবাড়ি দখলের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকার কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতা রাতারাতি তাদের খোলস পাল্টে এখন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতির নামে হরিলুট চালিয়ে গেলেও ভয় এবং আতংকে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বর্তমানে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলি খুবই অনিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং জেলের ভেতরে থাকা অপরাধীরা জেল ভেঙ্গে বের হয়ে পুনরায় বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাভিত্তিক হাটবাজারগুলিতে তাদের নিজ নিজ বলয় থেকে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, অতীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র যারা তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়েতো, তাদের দাপটে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তটস্থ থাকতে হতো। এতে নেতৃত্ব দিতেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লুৎফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন এবং তাদের সহযোগী জিয়াউল ইসলাম, মঈন উদ্দিন, নজরুল ইসলাম তাদের নিজেদের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাটবাজারে চাঁদাবাজি ও দখল কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নামধারী জনৈক নাইম হোসেন, রুহুল আমিন, কামরুল ইসলাম, কবির আহমেদ ও জামিল হোসেন নাঈম আহমদ নামের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এখন এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ তাদের খোলস পাল্টে বিএনপি’র সাথে আঁতাত করে নানারূপ অপকর্ম করে যাচ্ছে।

নিরীহ ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও একটি দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেখানে বিএনপি সমর্থক নাইম হোসেন, রুহুল আমিন, কামরুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগীদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফখরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান, আনছার মিয়ার নামও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানা যায়, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একদল ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সশস্ত্র সহযোগী নিয়ে গোলাপগঞ্জস্থ ঢাকাদক্ষিণ বাজারে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা একাধিক দোকানে ভাঙচুর করে এবং কিছু দোকান দখলের চেষ্টা চালায়।

সন্ত্রাসীরা ঐ বাজারের একজন শারিরীক প্রতিবন্দ্বি দোকান মালিক মঈন উদ্দিন ও ছালেহ আহমদকে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে দিয়ে দোকান দু’টি দখলের নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী হামলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয় এবং এতে একাধিক ব্যক্তি অংশ নেয়। যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। সকলেই খুবই ভীতসন্ত্রস্থ ও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছেন। এই ঘটনার পর বাজার কমিটির সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে দোকানপাট দখল করা হলেও এর প্রতিকারে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ব্যবসায়ীদের অভিমত, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মব সন্ত্রাসের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতংকিত রয়েছেন। এসব অপরাধের সাথে নতুন করে নারী ধর্ষণ, বলাৎকারের ঘটনাও অহরহ বেড়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রত্যেকটি বাজার এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন