
নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জের দোয়ারায় নিজের ঔরষজাত সন্তান সাইদুল হাসানকে জামালগঞ্জ থানাধীন দামোধরপুর গ্রামের মৃত শফিকুল হক ও মোছাঃ নূরজাহান এর মেয়ে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের ছাত্রী তাহমিনা বেগম মুন্নীকে অপহরণের দায়ে অতীষ্ট হয়ে সকল প্রকার সহায়-সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে বিগত ২৯/১২/২০২৪ ইংরেজী তারিখে মাননীয় নোটারী পাবলিক মহোদয়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে সাইদুল হাসানকে ত্যাজ্য সন্তান হিসাবে ঘোষণা করেন। উভয় পরিবারের কাছে তাহমিনা বেগম মুন্নীকে গোপনে বিয়ে করলেও সাইদুল হাসান তার পিতার নিকট থেকে বিবাহের বিষয়টি গোপন রেখে লন্ডন গমনের জন্য প্রায় ৫১ লক্ষ ঋণ গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে সে তাহমিনা বেগম মুন্নীকে নিয়ে গোপনে লন্ডন গমন করে। সাইদুল হাসান লন্ডন গমনের পর পিতার চাপে মাত্র ৪ লক্ষ টাকা ফেরত প্রদান করলেও বাকী টাকা পরিশোধে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে নিরূপায় হয়ে সাইদুল হাসানের পিতা নজরুল ইসলাম তার ত্যাজ্য পুত্র সাইদুল হাসান-এর নিকট থেকে ৪৭,০০,০০০/- (সাতচল্লিশ লক্ষ) টাকা আদায়ের নিমিত্তে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত নং- ০২ এ এই মামলা (নং- ৪৮/২০২৬ ইংরেজী), তারিখ- ২৭/০৭/২০২৬ ইংরেজী, ধারা- ৪২০/৪০৬ দঃ বিঃ সংক্রান্তে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআই, সুনামগঞ্জকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত সাইদুল হাসান-এর বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রী তাহমিনা বেগম মুন্নী অপহরণ মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ চলতি বৎসরের ২০ এপ্রিল এক জনাকীর্ণ আদালতে তাকে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ০৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। সাইদুল হাসান পলাতক থাকায় আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করলে সেটি এখন তামিলের জন্য অপেক্ষমান আছে।