
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমাজে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, জগন্নাথপুর গ্রামের মোসাঃ শারমিন আক্তার রুবি (২৫) ও মুজাহিদপুর গ্রামের মোঃ শাফি মিয়া (৩৫) স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউকে গমন করেন। শারমিন ওয়ার্কিং ভিসায় এবং শাফি তার ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে ইউকে যান। ইউকে যাওয়ার সকল খরচ শাফির পরিবার বহন করে। কিন্তু ইউকে পৌঁছে বিগত ২০২৪ সালের জানুয়ারির দিকে শারমিন তার পুরানো প্রেমিক জগন্নাথপুরের পিংকু চন্দ্র রায়ের (২৬) সাথে পুনরায় যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে পুরানো প্রেমের সম্পর্ক জেগে ওঠে।
একপর্যায়ে শাফি তার স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয় এবং শারমিন স্বামীকে রেখে অন্যত্র একা বসবাস শুরু করেন। শাফি বিষয়টি বাংলাদেশে তার পরিবারকে জানালে তারা শারমিন ও পিংকুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু উভয় পরিবারই তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে বা বুঝিয়ে সংশোধন করতে ব্যর্থ হয় এবং নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে।
এ ঘটনায়, গতকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শুক্রবার, শাফির পরিবারের ডাকে জগন্নাথপুরে স্থানীয় সালিশ বসে। সালিশে মুরব্বীরা শারমিন ও পিংকুর পরিবারকে কঠোর শর্ত দেন যে, তারা তাদের সন্তানদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। মুরব্বীদের মতে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচরণবিধির লঙ্ঘন। এছাড়া, শারমিন মুসলমান এবং পিংকু হিন্দু হওয়ায় এই সম্পর্ক স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ হতে পারে।
সালিশের সিদ্ধান্ত এবং ঘটনার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট স্থানীয় সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও কেউ কেউ এটিকে অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এবিষয়ে আলাপকালে শারমিন আক্তার রুবির মামা, বাড়ি জগন্নাথপুরের বাসিন্দা মোঃ সুমন মিয়া জানান, রুবির এধরনের আচরণে তার ও রুবির পরিবারের মান-সম্মান ধুলায় মিশে গেছে। তিনি রুবির মত কুলাঙ্গারের মুখ দেখতে আর রাজি না।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে পিংকু চন্দ্র রায়ের পিতা পরিমল চন্দ্র রায়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পিংকুর জনৈক আত্মীয় জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে পরিমল বাবু ভেঙ্গে পড়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই তিনি আর তার মেকানিকাল স্টোরটি খুলেননি। বর্তমানে পিংকুর সাথে তার পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে কেউ জানেনা।
সবশেষ তথ্য অনুসারে, এবিষয়ে মোঃ শাফি মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জগন্নাথপুর থানায় জিডি করার প্রস্তুতি চলছে।