• ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

পূর্ব শত্রুতার জেরে আগুনে পুড়লো ব্যবসায়ী সোহেল আহমদের বসতবাড়ি

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২৪
পূর্ব শত্রুতার জেরে আগুনে পুড়লো ব্যবসায়ী সোহেল আহমদের বসতবাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সোহেল এন্টারপ্রাইজ এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ফার্মের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী সোহেল আহমদের বাড়িতে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আগুন দিয়েছে মৌলবাদী উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, নগরীর আম্বরখানা শুভেচ্ছা ১০ নিবাসী ইসহাক আহমদের ছেলে সিলেট নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সুয়েল আহমদ এর বাসা শুভেচ্ছা ১০ এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে সবকিছু জ্বালিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীরা।
এসময় বাসার উপস্থিত মহিলাদেরকে মারধরও করে তারা। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ বিকাল ৫ টার দিকে প্রায় অর্ধ শতাধিক দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুহেল এর বাসার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সুহেল আহমদকে হত্যা করার জন্য খুঁজতে থাকে। তাকে খুঁজে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা আগুনে বাসার সব ফার্নিচার গ্যারেজে রাখা ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ও মোটর সাইকেলসহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রায় তিন চার বছর ধরে শহীদুল, সাগর, বাবলু ও তাদের সহযোগীরা যারা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী উগ্রপন্থী মৌলবাদী হিসেবে পরিচিত সুহেল আহমেদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল, দফায় দফায় তার ওপর হামলাও চালাচ্ছিল। চাঁদা আদায়ের ক্রমাগত হুমকির মুখে তিনি বিভিন্ন সময় তাদেরকে চাঁদা দিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানাতে চাইলে হিতে বিপরীত হয়। এতে তার উপর হুমকির পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে একপর্যায়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সুহেল আহমদ গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। কিন্তু এতেও শহিদুল সাগর ক্ষান্ত হয় নাই। তারা বরং বার বার তার বাসায় গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ইসহাক আহমদ এবং তার ভাই ইলিয়াছ আহমদ জুয়েলকেও হুমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশের সুযোগে পাঁচই আগস্ট ২০২৪ সালে ওই দুর্বৃত্তরা তার বসতবাড়িতে আগুন জ্বালিয়েছে বলে জানা যায়। শুধু তাই নয়, তারা ঐ দিন সুহেল এর ভাই জুয়েলকেও হত্যা করার চেষ্টা করে। এতে প্রাণভয়ে ভীত হয়ে জুয়েল ও আত্মগোপন করেন। ক্রমাগত হামলা ও হুমকির কারণে পুরো পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে আছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যবসায়ী এই পরিবারটির আরেক সদস্য ইফফাত বিনতে বাছিত (জুয়েলের স্ত্রী) ও তার সন্তানেরা ২০২৩ সালে গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে সুহেল আহমদের বৃদ্ধ পিতা ইসহাক আহমেদ (৮৫বছর) তার দুই ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দেশ ও বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি এই মৌলবাদীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সহায় সম্পদ দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান। ৫ আগস্টের এই ঘটনা সাংবাদিকসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পরবর্তীতে পরিদর্শন করতে আসেন। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জানান। সন্ত্রাসীদের দেওয়া আগুনে এভাবেই ব্যবসায়ি সুহেল আহমদের বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন