
নিজস্ব প্রতিনিধি
সিলেট মহানগরের কেওয়াপাড়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য ও ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ চৌধুরীর পিতৃনিবাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মে) রাত ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আব্দুল্লাহ চৌধুরীর বাসভবন আ/এ-১০/ই হাজারীবাগ, শাহী ঈদগাহ এলাকায় এসে ভাঙচুর চালায়। তারা গেট ভাঙার চেষ্টা করে এবং বাড়ির সামনে থাকা আসবাবপত্রে হামলা চালায়। পরে তারা হাজারীবাগ রাস্তার মুখে আব্দুল্লাহ চৌধুরীর বাবা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর একটি মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগÑএই হামলাটি ছাত্রদল ও শিবিরের যৌথ উদ্যোগে সংঘটিত হয়েছে।
সাক্ষীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মূলত আব্দুল্লাহ চৌধুরীকে টার্গেট করে এসেছিল। তবে হামলার সময় তিনি বাসায় না থাকায় তারা এ ক্ষতি করে এবং তার মাকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হামলার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও, অভিযোগ করা হচ্ছে যে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আমলে নেয়নি। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক কার্যক্রমের কারণে কিছু মহল ক্ষুব্ধ হয়ে এমন ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তারা বলেন, “আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছি। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ চৌধুরীর মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা এসে আমার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। হাতের নাগালে পেলে হত্যা করবে বলেন। আমি তাদের কাওকে চিনতে পারিনি। আমার স্বামী ও ছোট ছেলে তাদের ও পুলিশের হয়রানির শিকার, তারা কখন কোথায় থাকে আমি নিজেই জানি না। আমি ন্যায় বিচার চাই ।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনীতির নামে এমন সহিংসতা কখনোই কাম্য নয়। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।